নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চলতি মাসেই মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক হতে পারে। আগস্ট মাসের সেই বৈঠকে হাজির থাকতে পারেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে এখবর জানানো হয়েছে। আগামী বছরই উত্তরপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। প্রধানত উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীদের এককাট্টা হয়ে লড়াইয়ের তোড়জোর সম্ভাব্য ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকের অন্যতম বড়ো উদ্দেশ্য। এদিন এমনই জানানো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে। যদিও কবে এবং কোথায় বৈঠক হবে, তা এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবারই শেষ হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সংসদের গোটা অধিবেশন জুড়েই বিরোধী ঐক্য বজায় ছিল। এমনকি সিপিএম, সিপিআই সহ বাম দলগুলিকেও এককাট্টা করে মোদি বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। অবিজেপি দলের মধ্যে শুধুমাত্র বিজু জনতা দল (বিজেডি) বিরোধী জোটে অংশ নেয়নি। জানা যাচ্ছে যে, অনির্দিষ্টকালের জন্য সংসদের বাদল অধিবেশন মুলতুবি হওয়ার পর এদিন রাজ্যসভার লবিতে বিরোধী দলগুলির একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে কংগ্রেস সাংসদ সোনিয়া গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বলা হয়েছে যে, বাদল অধিবেশনে যেভাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোট একযোগে মোদি সরকারের বিরোধিতায় সরব হয়েছে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও একইভাবে ঐক্য বজায় রেখেই কাজ করা হবে।
অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন ইস্যুর বিরোধিতায় আরো সোচ্চার হওয়ার বার্তাই এদিন দিয়েছেন বিরোধীরা। তৃণমূল সূত্রের অভিযোগ, বিরোধীদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আদতে অধিবেশন চালায়নি সরকার পক্ষই। ১৯৫২ সালের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে সভাকক্ষে আসেননি। যদিও বৃহস্পতিবার লোকসভা যখন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হচ্ছে, সেইসময় সংসদে নিম্নকক্ষে হাজির ছিলেন নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ। বন্দেমাতরম গেয়েছেন তাঁরা। তৃণমূল সূত্রে কটাক্ষ করা হয়েছে, গড়ে প্রতি চার মিনিটে একটি করে বিল পাস করানো হয়েছে।