Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপির বিষদাঁত ভাঙব, তীব্র আক্রমণ মমতার

বিভাজন আর অনুপ্রবেশ এই দুই ইস্যুই মোদি-শাহের ভরসা ২৬’এর মহারণে! বহুত্ববাদে বিশ্বাসী বাংলায় বিভাজন যে খুব একটা কাজ করছে না, ইতিমধ্যেই উপলব্ধি হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি)। এসআইআর করে বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গা-মুক্ত ভোটার তালিকার প্রচার করা হলেও, অনুপ্রবেশ তত্ত্ব এখনও প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।

বিজেপির বিষদাঁত ভাঙব, তীব্র আক্রমণ মমতার
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও বরানগর: বিভাজন আর অনুপ্রবেশ এই দুই ইস্যুই মোদি-শাহের ভরসা ২৬’এর মহারণে! বহুত্ববাদে বিশ্বাসী বাংলায় বিভাজন যে খুব একটা কাজ করছে না, ইতিমধ্যেই উপলব্ধি হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি)। এসআইআর করে বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গা-মুক্ত ভোটার তালিকার প্রচার করা হলেও, অনুপ্রবেশ তত্ত্ব এখনও প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। তাই শেষ ভরসা সেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তাদেরই লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে তৃণমূল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ, ইডি, সিবিআই, এনআইএ আর ইনকাম ট্যাক্স—বিষদাঁত বের করে ফেলেছে পদ্মপার্টি। আর সেই প্রেক্ষিতেই শুক্রবার উত্তরবঙ্গের কোচবিহার আর দক্ষিণের দমদমের নির্বাচনি সভা থেকে গর্জে উঠেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—‘বিজেপির বিষদাঁত ভাঙবই! ভোট করার লোক নেই। তাই এজেন্সিকে সামনে রেখে আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে। গণতন্ত্রে বুলেট নয়, আঘাত হবে ব্যালটে। যতই করো হামলা, এবার হবে গণতন্ত্রের বাংলা!’ 

Advertisement

এদিন কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে নির্বাচনি সভা করেন মমতা। এই ময়দানেই গত ৫ এপ্রিল সভা করে গিয়েছিলেন বিজেপির ‘পোস্টার বয়’ নরেন্দ্র মোদি। মমতার সভার জমায়েত যে বহরে ১০ গোল দিয়েছে বিজেপির সেই সভাকে, এমনই চর্চা কোচ রাজার শহরে। ৯ এপ্রিল নিজের রাজ্যে ভোট শেষ করেই লাগোয়া কোচবিহার-জলপাইগুড়িতে দলের প্রচারে নিয়মিত আসছেন অসমের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে এদিন তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতা। বলেছেন, ‘অসমের মুখ্যমন্ত্রী এখানে এসে উঁকি-ঝুঁকি মারছেন। অসম থেকে ট্রেনে চাপিয়ে লোক নিয়ে এসে সেন্ট্রাল ফোর্সের সাহায্যে ভোট দেওয়ানোর ফন্দি করছেন। কিন্তু মানুষ আপনাদের চক্রান্ত ভেস্তে দেবে।’
কোচবিহারের ভূমিপুত্র হওয়া সত্ত্বেও প্রায় আড়াই লক্ষ রাজবংশী ও নস্যশেখ মানুষের নাম এসআইআরে জেরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফুঁসছে কোচবিহার। মমতা ব্যাখ্যা—‘এনআরসি নোটিস করে রাজবংশী মানুষের নাম কেটেছে। কারণ, সামনা-সামনি লড়াই করার ক্ষমতা নেই। বাংলার মানুষকে এখন বাইরের মানুষ বলা হচ্ছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে। আর আমরা কী করেছি, মানুষ দেখেছেন। রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতি, উন্নয়ন পর্ষদ, কোচবিহারকে হেরিটেজ শহর ঘোষণা আরও কত কী!’ এরই পাশাপাশি জনতাকে তাঁর পরামর্শ, ‘বিজেপিকে ভোট দেবেন না। অত্যাচারের বদলা নিন, যাতে কোচবিহারকে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে না পারে।’ বিজেপি যতই চেষ্টা করুক, যত ফন্দিই আটুক, ওদের কোনো জারিজুরি বাংলায় খাটবে বলেই প্রত্যয়ী বার্তা এদিন ছিল নেত্রীর গলায়। তাঁর সাফ কথা—‘বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আপনাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে, আমরাও ছেড়ে কথা বলব না। সবাই মাথা নত করলেও, আমরা করব না।’ এই পর্বেই তৃণমূল সুপ্রিমোর স্লোগান—‘মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দাও।’ সিংহগর্জনে গলা মেলায় জনতা... ‘ফিরিয়ে দাও, ফিরিয়ে দাও।’
নির্বাচনের ১০দিন আগে অতিসক্রিয় হয়ে ওঠা আয়কর দপ্তর এবং তাদের অভিযান নিয়ে এদিন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ দেখিয়েছে মমতাকে। তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনোভাবেই জব্দ করতে পারছে না, শায়েস্তা করতে পারছে না। তাই আমার দল আর মানুষকে ডিস্টার্ব করছে!’ বিজেপির ফন্দি মানুষের সামনে তুলে ধরে তাঁর হুংকার, ‘আমার হিম্মত আছে। পারলে আমার সঙ্গে লড়ো। একা থাকব। তোমরা বহিরাগত বাহিনী পাঠাও। দেখব, গণতান্ত্রিক জোর কার কতটা!’     

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ