সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: মোদি-শাহ জুটি যতই পেশি ফোলান, ভোট-চুরি না হলে পাঁচ রাজ্যের কোথাও এবার পদ্মফুল ফুটবে না বলেই মনে করছে কংগ্রেস। তিন রাজ্যের ভোট পরবর্তী দলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষেই আশার আলো দেখছেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গেরা। অসম, কেরল, পুদুচেরিতে কংগ্রেস সরকার গড়বে বলেই প্রত্যয়ী ২৪ আকবর রোড। বিজেপি এবং ‘নেপথ্যে’ নির্বাচন কমিশন মাঠে নামলেও পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূলই ফের ক্ষমতায় ফিরছে বলেই কংগ্রেসের হিসাব।
বাাংলায় কংগ্রেসও গতবারের ‘শূন্য’র সংখ্যা পার করবে বলেই এআইসিসির অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট। পশ্চিমবঙ্গে খুব কম করে হলেও তিনটি আসন আশা করছে সোনিয়ার দল। সেটি বেড়ে চার অথবা পাঁচও হতে পারে। আর কংগ্রেসের এই অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট যদি শেষমেশ মিলে যায়, তাহলে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদির ইমেজ
ব্যাপক ধাক্কা খাবে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত ভোটে এর প্রভাব পড়তে পারে।
অসমে এবার হ্যাটট্রিকের আশায় বিজেপি। যদিও সেই আশা পূরণ হবে না বলেই আত্মবিশ্বাসী কংগ্রেস। গোড়ার দিকে পিছিয়ে থাকলেও ভোটের মুখে হাওয়া ঘুরেছে বলেই দলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে আভাস। ১২৬ আসন বিশিষ্ট অসমে কংগ্রেস ৬০ আসন পাবে বলেই মনে করছে। বাকি দুই শরিক রাইজোর দল এবং অসম জাতীয় পরিষদ মিলিয়ে সরকার গড়ার সংখ্যা এসে যাবে বলেই প্রত্যয়ী কংগ্রেস। গতবার কংগ্রেস পেয়েছিল ২৯ আসন।
কেরলে এখন বামেদের শাসন। সেখানেও এলডিএফ হ্যাটট্রিক করতে মরিয়া। আর পিনারাই বিজয়নের এই স্বপ্ন পূরণে নেপথ্যে বিজেপি সাহায্য করছে বলেও কংগ্রেসের অভিযোগ। তা সত্ত্বেও এবার কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ক্ষমতা পাচ্ছে বলেই কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন পাঁচ দলের ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট ১০৫-১১০ আসন পাবে বলেই হিসাব কষেছে। ১৪০ আসন বিশিষ্ট কেরলে গতবার (২০২১ সালে) কংগ্রেস পেয়েছিল ২১। সিপিএম ৬২।
পুদুচেরি আর তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস-ডিএমকে’র জোটই ক্ষমতায় আসছে বলেই একপ্রকার নিশ্চিত এআইসিসি। পুদুচেরিতে এখন বিজেপি শরিক ‘অল ইন্ডিয়া এন আর কংগ্রেসে’র নেতা এন রঙ্গস্বামী মুখ্যমন্ত্রী। ৩০ আসন বিশিষ্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে গতবার কংগ্রেস পেয়েছিল দুই। ডিএমকে ছয়। তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের পক্ষেই জনমত বজায় থাকবে বলেই কংগ্রেস আত্মবিশ্বাসী। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গে মমতা। কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের কোনো নির্বাচনি জোট নেই। এবার বাংলায় একা লড়ছে কংগ্রেস। তবে সেটি পরোক্ষে বিজেপির হিন্দুভোট কেটে তৃণমূলকে সুবিধা করে দেবে বলেই কংগ্রেসের হিসাব।