


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিল্লি, মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে ওড়িশা, অসম—একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলায় কথা বললেই হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। কখনও একাধিক ভারতীয় প্রমাণপত্র দেখানোর পরও সেঁটে দেওয়া হচ্ছে ‘বাংলাদেশি’ তকমা। কখনও আবার রাতের অন্ধকারে ‘পুশব্যাক’ করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। বাঙালিদের নিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য যাবতীয় বিতর্কে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। দেশজুড়ে একের পর এক এই ধরনের ঘটনায় সবার প্রথম প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তিনি বাঙালি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সরাসরি পথে নামছেন। আজ, বুধবার কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত দলীয় মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। সঙ্গে থাকবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর ১টায় মিছিল শুরু হবে। এদিনই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে। আন্দোলন সংগঠিত হবে দেশের রাজধানীতেও। বাংলা ও বাঙালির স্বার্থে মমতার এই প্রতিবাদ প্রয়োজনীয় এবং তাৎপর্যবাহী বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এদিকে, বাঙালি ইস্যুতে তৃণমূলের সাঁড়াশি চাপের মুখে তাঁর আগের করা মন্তব্য থেকে কার্যত সরে এলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। আগে তিনি বলেছিলেন, অসমের কোনও বাসিন্দা জনগণনার নথিতে মাতৃভাষা বাংলা লিখলে বোঝা যাবে রাজ্যে কতজন বিদেশি (বাংলাদেশি) রয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাভাষী মানেই বাংলাদেশি! মঙ্গলবার ওই বক্তব্যের সাফাই দিয়ে হিমন্ত সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশি মুসলিমদের অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে নিরলস যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে অসম। তৃণমূল কংগ্রেস আমার মন্তব্য বিকৃত করেছে। বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার জন্য এটি মরিয়া চক্রান্ত ছাড়া কিছুই নয়। বাংলাভাষী মানুষ সহ অসমের প্রতিটি ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের আপসহীন অবস্থানকে সমর্থন করেন।’ কিন্তু পুরুষানুক্রমে ভারতীয়রা বাংলা বলার জন্য কীভাবে এনআরসির নোটিস পাচ্ছেন? সেই উত্তর কিন্তু অসমের মুখ্যমন্ত্রীর থেকে পাওয়া যায়নি।