Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বিজেপির শেষের শুরু’তোপ প্রিয়াঙ্কার জোটের ডাক মমতারও

জেন জি আন্দোলন এবং উপনির্বাচনে বেসামাল বিজেপি। এই ঘটনাক্রমে অক্সিজেন বাড়ল মোদি-বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র

‘বিজেপির শেষের শুরু’তোপ প্রিয়াঙ্কার  জোটের ডাক মমতারও
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: জেন জি আন্দোলন এবং উপনির্বাচনে বেসামাল বিজেপি। এই ঘটনাক্রমে অক্সিজেন বাড়ল মোদি-বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র। একদিকে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তোপ দাগলেন বিজেপির বিরুদ্ধে। আর অন্যদিকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডাক দিলেন জোটবদ্ধ হওয়ার। বললেন, ‘আমরা একসঙ্গে লড়ব, কাজ করব এবং জয়ী হব।’

Advertisement

বাঁকিপুর এবং দাতিয়া—এই দুই কেন্দ্রে বিজেপির পতন যেন বিরোধী শিবিরে বান ডেকেছে। মঙ্গলবার সংসদ চত্বরে প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, ‘বিজেপির শেষের শুরু। দেখতেই তো পাচ্ছেন উপনির্বাচনের ফলাফল কী ইঙ্গিত দিচ্ছে! বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির আসনেই মানুষ ওদের ভোট দেয়নি। এটাই কি যথেষ্ট নয়? স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মানুষ বিজেপিতে বীতশ্রদ্ধ। বুঝে গিয়েছে, দেশে কী হচ্ছে। এ তো সবে শুরু। দেখতে থাকুন।’ বিজেপি বিরোধী জোট যে ক্রমশ মজবুত হচ্ছে, তার আঁচ এদিন কনস্টিটিউশন ক্লাবের মভলঙ্কার প্রেক্ষাগৃহে তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ এমডিএমকে সুপ্রিমো ভাইকোর এক পুস্তক প্রকাশ অনুষ্ঠানেও দেখা গিয়েছে। রাহুল গান্ধী উদ্বোধন করেছেন ‘ভাইকো ইন পার্লামেন্ট’ শিরোনামে বই। আর সেই মঞ্চে হাজির অখিলেশ যাদব, পি চিদম্বরম, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ, ফারুক আবদুল্লা, সুপ্রিয়া সুলে, ডি রাজা, এম এ বেবি, জন ব্রিটাসের মতো তাবড় বিজেপি বিরোধী নেতানেত্রীরা। রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতায় অনুপস্থিত শুধু আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে। যদিও লোকসভায় রামমন্দিরের প্রণামি চুরি এবং ছাত্র-যুবর উপর হামলার অভিযোগে অমিত শাহকে আক্রমণের ইস্যুতে বিরোধীদের সঙ্গেই রয়েছে ডিএমকে। 
দিল্লিতে যখন এই ছবি দেখা যাচ্ছে, কলকাতায় কালীঘাটের বাড়িতে বসে তখন ফেসবুকে গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ডাক দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাত্র-যুবর আন্দোলন থেকে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টায় তৎপর বিজেপিকে নাম না করে তোপ দেগেছেন। রামমন্দিরের প্রণামি চুরিরও প্রবল সমালোচনা করেছেন। তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে তৃণমূলনেত্রী যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহস জুগিয়েছেন, একইভাবে তাঁকে রাজ্যের বিজেপি সরকার একপ্রকার গৃহবন্দি করে রাখার চেষ্টাতেও ফুঁসে উঠেছেন। বলেছেন, ‘প্রতিবাদকারী তরুণ-তরুণীদের দেশদ্রোহী তকমা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তবে আমি বলব, কখনো সাহস হারিও না। গণতন্ত্র ক্ষমতাসীনদের নয়, জনগণের। কখনো ভয়ের কাছে মাথা নত কোরো না। আর আমাকে যতই থামানোর চেষ্টা করবেন, ততই শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব। আমি ছাত্র আন্দোলন ও যুব আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে এসেছি। আমার কাছে কুর্সি নয়, মানুষের সেবাই আগে। তাই যে যতই কণ্ঠরোধের চেষ্টা করুক, ঘৃণা ছড়াক, আমরা শান্তি, ঐক্য ও সম্প্রীতির পথে চলব। এক দেশ, এক জনগণ এবং সকলের জন্য সমান অধিকার। আমরা লড়ব, কাজ করব এবং জয়ী হব।’ তাঁর দাবি, ‘আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার জন্য এটা একটা ষড়যন্ত্র। দলের কর্মীদের হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। জোর করে বিজেপি পঞ্চায়েত ও পুরসভার দখল নিচ্ছে। দরজা বন্ধ করে ডিলিমিটেশনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জনগণনা শুরু হয়েছে, অথচ তা শুরু করার আগে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।’ মমতার আশঙ্কা, ‘এসআইআরের পালটা এসআইআর হচ্ছে না তো!’ তাই তাঁর আহ্বান, ‘সবাই একজোট হয়ে লড়াই করুন।’ সরব হয়েছেন বিজেপির একাংশের সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমানের বিরুদ্ধেও। বক্তব্য শেষে বাংলা-বাঙালির আবেগ, প্রতিবাদী মনোভাবের কথা মনে করাতেই মমতার স্লোগান ছিল, ‘জয় হিন্দ। বন্দে মাতরম। জয় বাংলা। জয় নেতাজি।’ ছবি: পিটিআই

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ