সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: হাউই, তুবড়ি, রংমশাল—একসময় এসব বাজি কেনার জন্য কালীপুজোর আগে জমজমাট হয়ে উঠত উলুবেড়িয়ার মালপাড়া এলাকা। দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ এখানে বাজি কিনতে ছুটে আসত। ব্যাগ ভরতি করে বাজি কিনে বাড়ি ফিরত তারা। হাসি ফুটত এখানকার বাজি কারিগরদের মুখে। যদিও এখন সেসব অতীত! এখন আর মালপাড়ায় সেভাবে বাজি তৈরী হয় না। যেটুকু বাজি বিক্রি হয়, সেটাও বজবজ থেকে পাইকারি দরে কিনে এনে।
বুধবার সকালে মালপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, বাজি বিক্রির জন্য ছোটো ছোটো দোকান বানানোর কাজ চলছে। কয়েকটি জায়গায় ছড়িয়েছিটিয়ে বাজি বিক্রি হলেও ক্রেতাদের ভিড় নেই খুব একটা। বাজি বিক্রির ছবি তোলা দূরে থাক, নামই প্রকাশ করতে চাইলেন না এখানকার বিক্রেতারা। তাদের মতে, আগে আমাদের এখানকার তৈরী হাউই, রংমশাল তুবড়ি বিখ্যাত ছিল। এই জেলার পাশাপাশি অন্য জেলা থেকেও লোকজন বাজি কিনতে আসত এখানে। কিন্তু এখন আর বাজি তৈরি হয় না। কালীপুজোর সময় চারদিন এখানে বাজি বিক্রি হয়। নদীর ওপারে নুঙ্গি থেকে বাজি কিনে এনে এখানে বিক্রি করা হয়।
বাজি বিক্রেতা এক মহিলা বলেন, ‘আগের মতো আর বাজির বাজার নেই। নানা আইনি জটিলতার কারণে অনেকেই এই লাইন থেকে সরে আসছে।’ তিনি আরও জানান, বছরের অন্যান্য সময় বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা চলে তাঁদের। কালীপুজোর আগে এই সময়ে বাজি কিনে এনে এখানে বিক্রি করেন তাঁরা। কিন্তু আগের থেকে বিক্রি কমে যাওয়ায় উপার্জনও সেভাবে হয় না বলে জানালেন তিনি। এলাকার অধিকাংশ বাজি ব্যাবসায়ী জানালেন, আগে শতাধিক পরিবার বাজি তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন নানা আইনি জটিলতায় অনেকে অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন। যে কজন আছেন, তাঁরা বিকল্প কাজের সন্ধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে এই পেশায় পড়ে আছেন। আগামী দিনে তাঁরা এই কাজে থাকবেন কি না, সন্দেহ আছে।



