


উজির আলি, চাঁচল: মালদহের মালতীপুর কেন্দ্রে ফের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সিকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। স্বাভাবিকভাবে এই ভিআইপি আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা চর্চা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে কয়েক দশক ধরে বিধানসভা ভোটে মূল লড়াই হয়ে থাকে দুই দলের মধ্যে। এবারও লড়াই কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। যদিও বিজেপি ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবুও এই কেন্দ্রে তাদের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। স্থানীয় স্তরে বিজেপির উপস্থিতি থাকলেও ভোটের ময়দানে তারা কতটা ছাপ ফেলতে পারবে, তা নিয়ে সংশয়। তবে, কংগ্রেস কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়েও আলোচনা কম নয়। উঠে আসছে সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে ঘরে ফেরা মৌসম নুরের নাম। প্রাক্তন সাংসদের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই তাঁর সম্ভাব্য বিধানসভা আসন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মৌসমকে প্রার্থী করা হলে মালতীপুরের ভোট সমীকরণ নতুন মোড় নিতে পারে। কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আসনের জন্য একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ও ইন্টারভিউ হয়েছে। চাঁচল ২ ব্লকের কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফেও একাধিক নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।
চাঁচল ২ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মাঞ্জারুল ইসলাম বলেন, মালতীপুরে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মৌসমের। আমি, প্রাক্তন বিধায়ক সহ কয়েকজন ইন্টারভিউ দিয়েছি। মালতীপুরে বিজেপির কোনো সম্ভাবনাই নেই। তৃণমূলকে পরাস্ত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা চলছে। অন্যদিকে, মালতীপুরের তৃণমূল প্রার্থী রহিম জয়ের বিষয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাসী। বলেন, এলাকায় গত কয়েক বছরে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ নিশ্চয় ভোট দেবেন। উন্নয়নই হবে মূল ইস্যু। প্রার্থী যাঁকেই করা হোক না কেন, মানুষ উন্নয়নকেই সমর্থন করবে। বিজেপি এখানে কোনো ফ্যাক্টরই নয়।
এই আসনে বিজেপির অবস্থান খানিকটা আলাদা। দলের একাংশ মাস তিনেক আগে দাবি করেছিল, দল জিততে না পারলেও তৃণমূলকে সহজে জায়গা ছাড়বে না। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতাদের বক্তব্যে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তর মালদহ জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিঙ্ঘানিয়ার দাবি, সম্প্রতি বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী আমরা জেতার মতো জায়গায় আছি।
মালতীপুর সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্র। ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৩৮ হাজার। তার মধ্যে প্রায় ৯১ হাজার ভোটার বিচারাধীন। এই বিষয়টিও বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল।