নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ডেঙ্গুর সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনায় চোখ রাঙাচ্ছে ম্যালেরিয়া। চলতি বছরে আগস্টের শেষ পর্যন্ত জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৭২ জন। গত বছর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩২২। এবার সংখ্যাটা কিছুটা কম হলেও সতর্ক প্রশাসন। স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, উত্তর ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলার গ্রামীণ এলাকায় এবার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ৫০ জন। গত বছর একই সময়ে সংখ্যাটা ছিল ৬৪। শহরাঞ্চলে আক্রান্ত ৬৯ জন, গত বছর যেটা ছিল ৮৪। অন্যদিকে বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনায় বেশি। গ্রামীণ এলাকায় এ বছর ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ১৪২ জন। গত বছর আক্রান্ত ছিলেন ১৬৩ জন। শহরাঞ্চলে আক্রান্ত ১১ জন। গত বছরও একই ছিল, ১১। অর্থাৎ বসিরহাটের শহরাঞ্চলে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তাদের মতে, বর্ষায় মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই ম্যালেরিয়া ঠেকাতে মশার উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত চিহ্নিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। দপ্তর সূত্রে খবর, জ্বরের রোগীদের ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তের সন্ধান মিললে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে। কোনো এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে সেখানে নজরদারিও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সঙ্গে মশার বংশবিস্তার রুখতে জমা জল চিহ্নিত করে তা সরানো, নিকাশি ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখা এবং মশার লার্ভা ধ্বংসের কাজও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী লার্ভিসাইড প্রয়োগের পাশাপাশি মশার ঘনত্ব ও প্রজননস্থলের উপর নজর রাখা হচ্ছে।
ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে আক্রান্তের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় নজরদারির উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জ্বর হলেই পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। বিশেষ করে বসিরহাটের গ্রামীণ এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দপ্তর। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বসিরহাটের স্বরূপনগর, সন্দেশখালি ১ ব্লক ও বাদুড়িয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। উত্তর ২৪ পরগনা স্বাস্থ্যজেলায় গাইঘাটা ব্লকে আক্রন্তের সংখ্যা বেশি। এছাড়া এই স্বাস্থ্যজেলায় বিধাননগর ও বরানগরেও আক্রান্ত বেশি। এনিয়ে জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা বলেন, তুলনামূলকভাবে গ্রাফ নিম্নমুখী। তবে, যাঁরা এখনও আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। ম্যালেরিয়া রুখতে সমস্ত ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করেছি।