শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ময়না বিধানসভায় ভোটার তালিকায় ভূতুড়ে ভোটারের নাম তোলার ঘটনায় অভিযুক্ত সরকারি অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল নবান্ন। তমলুক ব্লকের ইলেকশন বিভাগের অফিসার-ইন-চার্জ থাকাকালীন সুদীপ্ত দাস ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। শুরু হয় বিভাগীয় তদন্ত। তাতে অভিযোগের সত্যতা মেলে বলে সূত্রের খবর। এরপরই সুদীপ্তবাবুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে অভিযুক্ত অফিসারের দু’টি ইনক্রিমেন্ট স্টপ করে দিয়েছে নবান্ন। সুদীপ্তবাবু তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত আধিকারিক ছিলেন। পাশাপাশি, ব্লকের ইলেকশন বিভাগের ওসিও ছিলেন। বুধবার জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল বলেন, ‘তমলুক ব্লকের প্রাক্তন ওসি ইলেশকন তথা ময়না বিধানসভার প্রাক্তন এইআরও’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হয়। তাঁর দু’টি ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করেছে রাজ্য।’
২০২৫ সালে জুলাই মাসে ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভায় ১৪১ জন ভূতুড়ে ভোটারের নাম তালিকায় তোলা হয়েছে বলে শনাক্ত করে নির্বাচন কমিশন। ময়না বিধানসভায় ছিলেন ৭৬ জন। নন্দকুমার বিধানসভায় ছিলেন ৬৫ জন। অস্পষ্ট ছবি, অসম্পূর্ণ ঠিকানা, ভুয়ো ফোন নম্বর দিয়ে নামগুলি ঢোকানো হয়েছিল। খতিয়ে দেখতে গিয়েই পর্দা ফাঁস। কমিশন ওই ১৪১ জনের তথ্য যাচাই করে জানতে পারে, ভূতুড়ে নাম এন্ট্রি করা হয়েছে। তমলুক ব্লকের অনন্তপুর-১ ও ২, নীলকুণ্ঠ্যা, শ্রীরামপুর-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত ময়না বিধানসভার মধ্যে পড়ে। এছাড়া, ওই ব্লকের বিষ্ণুবাড়-১, পদুমপুর-১ ও ২ পঞ্চায়েত নন্দকুমার বিধানসভার মধ্যে পড়ে। তমলুক বিডিও অফিসে বসেই অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম তালিকায় এন্ট্রি করা হয়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুর, মধ্যমগ্রাম, শ্যামনগর সহ বিভিন্ন জায়গার সাইবার কাফেতে ভুয়ো নথি আপলোড করে ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভার ভোটার হিসেবে তালিকায় নাম তোলার আবেদন করা হয়েছিল। দ্রুত সেইসব আবেদন খতিয়ে দেখে নাম তোলা হয়ে গিয়েছিল।
কমিশন ওই ঘটনায় ময়নার ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) বিপ্লব সরকার এবং এইআরও সুদীপ্ত দাসকে সাসপেন্ড করে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সেই মতো দু’জনকে সাসপেন্ড করা হয়। কমিশনের নির্দেশে মঙ্গলবার তাঁদের বিরুদ্ধে তমলুক থানায় এফআইআরও করা হয়েছে। এর আগে সুদীপ্তবাবুর বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংস (ডিপি) শুরু হয়। তদন্তকারী অফিসার ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) বৈভব চৌধুরী। তাঁর রিপোর্ট পাওয়ার পরই সুদীপ্তবাবুর দু’টি ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেয় নবান্ন।
এদিকে ভূতুড়ে ভোটার কাণ্ডে বিপ্লব সরকারের সরাসরি যোগ নেই বলে প্রশাসনের বক্তব্য। কারণ, তাঁর লগ-ইন আইডি ব্যবহার করেই তমলুক বিডিও অফিস থেকে ওই কাজ করা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরের ওই দুই অফিসার সহ রাজ্যের চার অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার শেষদিন ছিল। সেই নির্দেশ মেনে মঙ্গলবারই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ময়না বিধানসভার প্রাক্তন ইআরও এবং এইআরও’র বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়।