


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি খুনের মামলায় শার্প শ্যুটার ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ। বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গিয়েছে, বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল ফয়সাল ও আলমগীর। তার জন্য একাধিক দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল তারা। গোপন সূত্রে সেই খবর পৌঁছায় গোয়েন্দাদের কাছে। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার সকালে বনগাঁ থেকে ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গল এসটিএফ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর। নির্বাচনি প্রচার শেষ করে ফিরছিলেন ওসমান হাদি। সোহরাওয়ার্দি উদ্যান যাওয়ার জন্য তিনি অটোয় ওঠেন। বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছাতেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। হামলার পরে মোটর সাইকেলে চেপে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত দু’জন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদিকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পল্টন মডেল থানার পুলিশ। অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর হাসপাতালে হাদির মৃত্যু হয়।
তদন্তে নেমে বাংলাদেশ পুলিশ জানতে পারে, হাদিকে গুলি চালিয়েছে শার্প শ্যুটার ফয়সাল। বাইকটি চালাচ্ছিল আলমগীর। হাদিকে গুলি করার পর ফয়সাল তার শ্যালককে বন্দুকটি দিয়ে দেয়। প্রমাণ লোপাটে খালে ফেলে দেওয়া হয় বন্দুকটি। পরে বাংলাদেশ পুলিশ তা উদ্ধার করে। গোপন সূত্রে বাংলাদেশ পুলিশ জানতে পারে, ফয়সাল ও আলমগীর সীমান্ত পার করে ভারতে ঢুকেছে। সেই খবর জানানো হয় ভারতে। শুরু হয় তদন্ত। দুই অভিযুক্ত যে ভারতে ঢুকেছে, তা জানতে পেরেই তৎপর হয় বেঙ্গল এসটিএফ। সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন দালালের উপর শুরু হয় নজরদারি। এই পর্বেই নিজেদের সোর্সদের হাতে হামলাকারী দু’জনের ছবি দিয়ে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেন অফিসাররা। এর মধ্যে জানা যায়, অভিযুক্ত দু’জন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জায়গায় তারা আত্মগোপন করে রয়েছে। এর মাঝে আচমকাই সোর্স মারফৎ এসটিএফের কাছে খবর আসে, ফয়সাল ও আলমগীরকে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় দেখা গিয়েছে। তারা সেখানে ঘর ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেইমতো এসটিএফের অফিসাররা বনগাঁ সীমান্তে পৌঁছে যান। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন, এই দু’জন বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাবার চেষ্টা করছে। এর জন্য দালালদের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে তারা। রবিবার সীমান্তে আসতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, খুনের পর পরই তারা ভারতে চলে এসেছিল। স্থানীয় এক দালালের সুবাদে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে গৌহাটিতে আসে তারা। সেখানে বাড়ি ভাড়া নেয় ফয়সাল ও আলমগীর। গৌহাটি থেকে তারা পশ্চিমবঙ্গে ঢোকে। পরিচয় গোপন করে বেশ কয়েকটি জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিল। বনগাঁ সীমান্ত এলাকাতেও তারা আস্তানার খোঁজ করছিল। পাশাপাশি সীমান্ত পার করানোর জন্য স্থানীয় কয়েকজন দালালকে ধরেছিল দুই অভিযুক্ত। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, পালিয়ে থাকাকালীন বাংলাদেশের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল দুই অভিযুক্ত। কারা তাদের সাহায্য করছিল, ধৃতদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা চলছে।