নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাইকোর্টের এক বিচারপতির অসুস্থ শাশুড়িকে মারধর করেছেন পরিচারিকা। এই অভিযোগে পুলিশ শনিবার রাতে অভিযুক্ত পরিচারিকাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের নাম রিনা রায়। সার্ভে পার্ক থানা এলাকার একটি আবাসনে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। শুভ্রা দাশগুপ্ত নামে ৮১ বছরের ওই বৃদ্ধার মুখে একাধিক আঘাত রয়েছে। তাঁর মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মারধরসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে সার্ভে পার্ক থানা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভ্রাদেবী অনেকদিন ধরে অসুস্থ। বিভিন্ন বিষয় তিনি ঠিকমতো মনে রাখতে পারেন না। এই সমস্যা তীব্রতর হওয়ায় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে পরিবারের তরফে তাঁর জন্য একজন পরিচারিকা নিয়োগ করা হয়। তিলজলার বাসিন্দা রিনা রায় ওই বৃদ্ধাকে ২৪ ঘণ্টা দেখভাল করতেন। মেয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন। মাকে ঠিকমতো ওষুধ দেওয়া হয়েছে কি না, জেনে নিতেন। বাড়িতে থাকা সিসি ক্যমেরায়ও নজর রাখতেন। ২ সেপ্টেম্বর শুভ্রাদেবীর মেয়ে সার্ভে পার্কের বাড়িতে আসেন মাকে দেখতে। তখনই তাঁর নজরে পড়ে, মায়ের মুখে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘাড়ের কাছেও রয়েছে সেরকম চিহ্ন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা দেখে জানান, মারধর করার ফলেই মুখে ও ঘাড়ে ওই দাগগুলি হয়েছে। তখন পরিচারিকার কাছেই বাড়ির সদস্যরা জানতে চান, কীভাবে এই ঘটনা ঘটল। রিনা আমতা আমতা করে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে চাইছিলেন বলে অভিযোগ। কখনও তিনি বলেন, পড়ে গিয়ে আঘাত লেগেছে। পরক্ষণে বয়ান পালটে জানান, খাটে মুখ ঠুকে গিয়েছে। পরিবারের লোকজন বুঝতে পারেন, কোনো বিষয় আড়াল করার চেষ্টা করছেন পরিচারিকা। পরিচারিকাই বৃদ্ধাকে মারধর করেছেন বলে তাঁদের সন্দেহ হয়। ৩ সেপ্টেম্বর প্রথমে গরফা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু ঘটনাস্থল সার্ভে পার্ক থানার মধ্যে পড়ায় জিরো এফআইআর করে তা সার্ভে পার্ক থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারা সঙ্গে সঙ্গে মারধরের মামলা রুজু করে শনিবার রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত মারধরের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। সূত্রের দাবি, তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, শুভ্রাদেবী বারবার তাঁকে বিরক্ত করছিলেন। বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইছিলেন। তাতে তিনি মেজাজ হারিয়ে তাঁকে মারধর করেন।