Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

মহর্ষির মুক্তো বসানো জুতো

মহর্ষির মুক্তো বসানো জুতো
  • ২৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

 বুলবুলির লড়াই থেকে জলসা। উনিশ শতকের কলকাতার বাবুদের ছিল হরেক রকমের শখ-আহ্লাদ। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতেও বাবুয়ানির নজির কম নেই। উপেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ঋতু অনুযায়ী জামা পরার শখ ছিল। কানাইলাল ঠাকুর আবার পোশাকি মাছ খেতে ভালোবাসতেন। রীতিমতো ‘লাল কোর্তাপরা’ চিংড়ি মাছ! মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এবিষয়ে খুব একটা পিছিয়ে ছিলেন না। একবার ভরা জলসায় পায়ে মুক্তো বসানো জুতো পরে গিয়েছিলেন তিনি। যা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন বাবু সমাজের সদস্যরা। লেখায় সেই দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজ বরং সেই গল্পই বলা যাক। তখন পিতৃঋণের বোঝায় জর্জরিত দেবেন্দ্রনাথ। বিষয় সম্পত্তির অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এমন সময় শোভাবাজার রাজবাড়ি থেকে জলসার নিমন্ত্রণ এল। পিতৃঋণ শোধ করার খবর ততদিনে লোকমুখে ঘুরতে শুরু করেছে। নামী ব্যক্তিরা বলতে লাগলেন, দেখা যাক এবার কোন সাজে জলসায় আসেন প্রিন্স দ্বারকানাথের পুত্র। সেই খবর মহর্ষির কানে এল। সঙ্গে সঙ্গে ডাক পড়ল করমচাঁদ জহুরির। আদেশ দেওয়া হল, মুক্তো দানা দিয়ে একজোড়া মখমলের জুতো বানাতে হবে। কর্তার আদেশমতো জুতো তৈরি করলেন ঠাকুরবাড়ির বিশ্বস্ত জহুরি। মখমলের জুতোয় ছোট দানা দানা মুক্তো বসানো। জুতো তো হয়ে গেল। এবার জামা? তখনকার দিনে অনুষ্ঠানে শাল, সিল্কের জোব্বা পরাটাই ছিল দস্তুর। দেবেন্দ্রনাথ ঠিক করলেন, সাদা কাপড় পরবেন। জলসার দিন সাদা আচকান পরলেন মহর্ষি। মাথায় সাদা মোড়াসা পাগড়ি। পায়ে মুক্তোখচিত জুতো। এদিকে মজলিসে সকলে ধোপদুরস্ত হয়ে সেজে এসেছেন। মহর্ষিকে দেখে অনেকেই মনে মনে হাসলেন। কিন্তু দেবেন্দ্রনাথ কৌচে পাদুকা বের করে বসতেই সকলের কথা বন্ধ হয়ে গেল। শোভাবাজারের রাজা ছিলেন দেবেন্দ্রনাথের বন্ধু। তিনি বলে উঠলেন, ‘একেই বলে বড়লোক। আমরা যা গলায় মাথায় ঝুলিয়েছি ইনি তা পায়ে রেখেছেন।’ এভাবেই কঠিন সময়ে নিজের শৌখিনতার পরিচয় দিয়েছিলেন মহর্ষি। গত ১৫ মে ছিল তাঁর জন্মদিন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ