Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

মহারাষ্ট্রে লাড়কি বহিন যোজনায় ব্যাপক অনিয়ম, সুবিধাভোগী ১৪ হাজার পুরুষ

পশ্চিমবঙ্গের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অনুকরণে গত বছর মহারাষ্ট্রে মহিলাদের ‘লাড়কি বহিন যোজনা’ চালু করেছিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকার।

মহারাষ্ট্রে লাড়কি বহিন যোজনায় ব্যাপক অনিয়ম, সুবিধাভোগী ১৪ হাজার পুরুষ
  • ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুম্বই: পশ্চিমবঙ্গের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অনুকরণে গত বছর মহারাষ্ট্রে মহিলাদের ‘লাড়কি বহিন যোজনা’ চালু করেছিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকার। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই সেই প্রকল্প নিয়ে বিরাট দুর্নীতি সামনে এল। দেখা যাচ্ছে, এতদিন ধরে লাড়কি বহিনের সুবিধা পেয়ে এসেছেন ১৪ হাজারের বেশি পুরুষ! দশ মাস ধরে তাদের অ্যাকাউন্টে দেড় হাজার টাকা করে ঢুকেছে। তার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে বেরিয়ে গিয়েছে ২১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার বেশি। শুধু মহারাষ্ট্র নয়, প্রতিবেশী আর এক ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য গুজরাতেও শৌচালয় তৈরি নিয়ে দুর্নীতি সামনে এসেছে। সেখানকার ভারুচ জেলার আঙ্কলেশ্বর পুরসভা এলাকায় সরকারি হিসেবে ১৯০৬টি শৌচাগার তৈরি হয়েছে! যার জন্য খরচ হয়েছে অন্তত ২ কোটি টাকা। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ওই শৌচাগারের কোনও অস্তিত্বই নেই! অন্তত পাঁচটি সংস্থা ও সরকারি আধিকারিকরা এই শৌচাগার কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে অভিযোগ।  

Advertisement

মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনের আগে লাড়কি বহিন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল মহাযুতি সরকার। বলা হয়েছিল, বার্ষিক রোজগার আড়াই লক্ষ টাকার কম, এমন পরিবারের ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সি মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। কিন্তু মহাযুতি সরকার ভোটে জিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই লাড়কি বহিন নিয়ে একাধিক অনিয়মের কথা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকারের নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তর অডিটের ব্যবস্থা করেছিল। তাতেই দেখা যায়, ১৪ হাজার ২৯৮ জন পুরুষ লাড়কি বহিনের সুবিধা পেয়ে চলেছেন। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটল কীভাবে? প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার ফাঁকফোঁকর কাজে লাগিয়েই নিজেদের মহিলা হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছিলেন ওই পুরুষরা। সেক্ষেত্রে প্রশাসনের আধিকারিকদের নজরদারি কেন ছিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।
চরম অস্বস্তির মুখে তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে মহারাষ্ট্রের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার বলেন, ‘গরিব মহিলাদের সাহায্যের জন্য লাড়কি বহিন যোজনা চালু করা হয়েছিল। পুরুষদের এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কোনও কারণই নেই। যারা টাকা পেয়েছে, তাদের থেকে ওই টাকা ফেরত নেওয়া হবে। আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পাল্টা সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছেন এনসিপি (শারদ পাওয়ার) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পুরুষরা কীভাবে ফর্ম ফিলআপ করতে পারল? কারা তাদের সাহায্য করেছে? অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের জন্য কোন সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছিল? এর পিছনে আরও বড় দুর্নীতি রয়েছে। তার জন্য সিট বা ইডিকে দিয়ে তদন্ত করানো উচিত।’
এদিকে, গুজরাতে ২০১৪-১৫ সালে শৌচাগার নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রবীণ মোদি বিষয়টি নিয়ে আরটিআই করে তথ্য চেয়েছিলেন। তাতে দেখা যায়, আঙ্কলেশ্বর এলাকায় একাধিক বড় বাড়ি, বাংলোর মালিকদের নামে শৌচাগারের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। ওই শিক্ষক খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই বাড়ি বা বাংলোগুলিতে সরকারি শৌচাগার তৈরি হওয়া তো দূরের কথা, ওই ব্যক্তিরা কোনও দিন এর জন্য আবেদনই করেননি। গুজরাত মিউনিসিপ্যাল ফিনান্স বোর্ড ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতানোর জন্যই এই দুর্নীতি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ওই প্রাক্তন শিক্ষক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ