নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোটের প্রচারে বেরিয়ে ‘প্রেসক্রিপশন’ বিলি করছেন কংগ্রেসের প্রার্থী পেশায় চিকিৎসক অতনু হালদার। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। তবে এ কোনো সাধারণ প্রেসক্রিপশন নয়। জিতলে কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের উন্নয়ন করবেন তিনি, দাওয়াই আকারে লেখা হয়েছে তাতে সেসবই। টনিক, ভিটামিন থেকে অ্যান্টিবায়োটিক—বিভিন্ন রোগের এমন ‘ওষুধ’ আছে প্রেসক্রিপশনে। মগরাহাট পূর্বের এই প্রার্থীর এহেন অভিনবত্ব প্রচারে নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অতনুবাবু বলেন, মগরাহাট পূর্বের সার্বিকভাবে যেসব অসুখ রয়েছে যেমন বেহাল রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রভৃতি নিরাময় করতে প্রেসক্রিপশন আকারে তার ওষুধ লিখে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু আমি নিজে ডাক্তার তাই সেই ভাবনা থেকেই এমন উদ্যোগ।
এই প্রথম অতনুবাবু বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর বাবা মনোরঞ্জন হালদার একসময় বিধায়ক ছিলেন। পরবর্তীকালে মথুরাপুরের সাংসদও হন তিনি। কয়েকদশক বাদে, এবার মগরাহাট আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তাঁর ছেলে।
জিতে এলে কী কী করা হবে, সেটা লিফলেট আকারে তৃণমূল এবং বিজেপি প্রার্থীরা বিলি করছেন সাধারণ মানুষের মধ্যে। তৃণমূল তাদের ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরছে। আগামী দিনের প্রতিশ্রুতির তালিকাও জায়গা করে নিয়েছে তাদের প্রচারে। একইভাবে বিজেপিও বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে তাদের ‘সংকল্পপত্র’। সেখানে কংগ্রেসের এই প্রার্থী তাঁর নিজস্ব বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নভাবনা পৌঁছে দিচ্ছেন অন্যভাবে। যে ‘প্রেসক্রিপশন’ তিনি বিলি করছেন, তাতে ‘রোগী’র নাম লেখা রয়েছে ‘মগরাহাট পূর্ব’। ঠিক যেমন প্রেসক্রিপশনে ডাক্তারের নাম লেখা থাকে সেটিও রয়েছে। আর তার নীচে কোন রোগের কোন দাওয়াই তা বিবরণসহ উল্লেখ করেছেন তিনি। যেমন এই বিধানসভা আসনের অধীনে যেসব হাসপাতাল রয়েছে সেগুলির উন্নতি প্রয়োজন বলে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার জন্য অতনুবাবু সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া উন্নত মানের রেফারেল ব্যবস্থা করবেন বলে লিখেছেন। এটাই তাঁর ওষুধ। অন্যদিকে, কৃষিক্ষেত্রে তিনি ‘টনিক’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর স্বচ্ছ প্রশাসনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনি ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ প্রয়োগের নিদান দিয়েছেন। এভাবেই প্রতিদিন যেসব অঞ্চলে প্রচারে যাচ্ছেন কংগ্রেস প্রার্থী, গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তাঁর এই অভিনব প্রেসক্রিপশন!