রাজীব বর্মন, দিনহাটা: এবার অসম-বাংলা দুই সরকারের আর্থিক উদ্যোগে নতুন ভাবে সাজিয়ে তোলা হবে কোচবিহারের মধুপুর ধাম। এই মধুপুর ধামেই প্রখ্যাত বৈষ্ণব গুরু শংকরদেবকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। তাই অসম ও বাংলার অসংখ্য মানুষের কাছে মধুপুর অত্যন্ত পবিত্র স্থান। অসম সরকার এই ধামের জন্য ৩৫ কোটি বারদ্দ করেছে। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাবিত ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হবে ঐতিহ্যবাহী এই মধুপুর সত্রকে। শনিবার কোচবিহারে শংকরদেবের সমাধি ক্ষেত্র মধুপুর ধাম পরিদর্শনে এসে একথা জানান অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা। এই কাজ হলে তোর্সা নদীর ধারে মধুপুর ধাম এক বিশেষ ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অসমের শংকরদেবের মন্দিরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানকার মন্দিরকে সাজিয়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে ছিলেন অসম মন্ত্রিসভার সদস্য ও আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধি দল। পাশাপাশি রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী মালতী রাভারায় সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
এদিন দুপুরে অসমের মুখ্যমন্ত্রী মধুপুর সত্রে আসেন। সেখানে প্রার্থনা জানানোর পর গোটা সত্র এলাকা ঘুরে দেখেন। সত্ৰ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মেগা প্রকল্পের রূপায়ণ নিয়ে বৈঠক সারেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। শুধু সৌন্দর্যায়ন নয়, সত্রের সঙ্গে যুক্ত হরিপুর ও বৈকুণ্ঠপুর এলাকার উন্নয়ন, সত্রের জমি উদ্ধারের বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।
হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, অসমের নগাঁও জেলার বড়দোয়া সত্রকে যে ভাবে আধুনিক পরিকাঠামোয় সাজানো হয়েছে সেই আদলে মধুপুরকে গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। সেজন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের বড়দোয়া সত্র পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহাগুরু শংকরদেবের স্মৃতি বিজড়িত মধুপুর সত্রে আসার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এই সত্রটির সৌন্দর্যায়ন, গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ক্ষেত্র ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন করতে অসম সরকার অত্যন্ত আগ্রহী। সেজন্য আমরা ৩৫ কোটি টাকা বাজেটে বরাদ্দ করেছি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও এই মধুপুর সত্রটি উন্নয়নের জন্য ৩০ কোটি টাকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, কোচবিহারের এই মধুপুর সত্রটি অসম ও উত্তরবঙ্গের বৈষ্ণব সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র। কোচবিহারের মহারাজার আমন্ত্রণে এই এলাকায় এসেছিলেন শ্রীমন্ত শংকরদেব। তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাটিয়েছিলেন এই মধুপুর ধামে। তাঁর মহাপ্রয়াণ হলে তাঁকে মধুপুর সত্রে সমাধিস্থ করা হয়। ফলে ভক্তদের কাছে এই স্থান আজও গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের। সারা বছর অসম সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন শংকরদেবের স্মৃতিধন্য এই ধামে। সেই ধর্মীয় ঐতিহ্যকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মধুপুর সত্রকে বড় পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। হিমন্তের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার মধুপুর সত্রের উন্নয়নে ৩০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উন্নয়নের জন্য আরও জায়গা দরকার হলে প্রয়োজনে জমিও কেনা হবে।
মধুপুরের সত্রাধিকারী মাধবদেব মহন্ত বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মধুপুর সত্র সমিতির সভাপতি। মধুপুর সত্রের যে সব জায়গা বেদখল হয়ে আছে সেগুলি দখলমুক্ত করে উন্নয়নের জন্য তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরপর যদি আরও জায়গার দরকার হয় সেক্ষেত্রে তিনি জমি কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।