ভবতারিণীর ‘বড়ো বোন’ মা নিস্তারিণীর ১৭৭ বছর! শোভাবাজারে গোহার কালীবাড়ি জুড়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণীর ‘বড়ো বোন’ মা নিস্তারিণী, ১৭৭ বছরে পা দিলেন। শোভাবাজারের গোহার কালীবাড়ি। কলকাতার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর নানা অলৌকিক কাহিনি। উত্তর কলকাতার শোভাবাজারের তেমনই এক ঐতিহাসিক পীঠস্থান গোহোর কালীবাড়ি। কথিত আছে, রানি রাসমণির উদ্যোগে তৈরি দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী কালীমূর্তির আদলে নির্মিত হয়েছিল এখানকার মা নিস্তারিণীর বিগ্রহ। দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বড়ো বোনের। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব থেকে শুরু করে স্বামী বিবেকানন্দের পদধূলিধন্য এই মন্দির এবার ১৭৭ বছরে পা দিল। ইতিহাস, বিশ্বাস আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে আজও অগণিত ভক্তের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ এই গোহোর কালীবাড়ি।
মন্দিরের সেবায়েত সুজিত গোহ বলেন, দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী কালীমূর্তির প্রতিরূপ নির্মাণের উদ্দেশ্যে রানিমা রাসমণির নির্দেশে নবীন ভাস্কর তৈরি করেছিলেন এক অপরূপ কালীমূর্তি। দক্ষিণেশ্বরের বিগ্রহের তুলনায় আকারে কিছুটা ছোটো হলেও নির্মাণশৈলী ও আদলে ছিল বিশেষ সাদৃশ্য। দীর্ঘদিন রাসমণির বাড়িতেই সংরক্ষিত ছিল এই বিগ্রহ। পরবর্তীকালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে শিবচরণ গোহো রানিমার কাছ থেকে মূর্তিটি নিয়ে আসেন এবং শোভাবাজারের এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন।
সেই থেকেই দেবী এখানে মা নিস্তারিণী নামে পূজিতা হন। তিনি বলেন,  দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দুই বোনের। আকারে কিছুটা ছোটো হলেও দুই দেবীমূর্তির রূপ ও নির্মাণশৈলীতে রয়েছে আশ্চর্য মিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে চলে আসছে মা নিস্তারিণীর আরাধনা। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের সংক্রান্তিতে মহাসমারোহে পালিত হয় দেবীর জন্মতিথি।

Advertisement