সংবাদদাতা, বনগাঁ: এখন গোটা রাজ্য জুড়ে আলোর রোশনাই। তবে ওঁরা অন্ধকারেই। পুজোয় ঢাকে কাঠি পড়েছে। কিন্তু তার বোল পৌঁছয় না ওঁদের কান পর্যন্ত। ওঁদের অপেক্ষা শুধু ঘরে ফেরার। ওঁরা গাইঘাটা ত্রাণ শিবিরের বাসিন্দা বিজলিরানি ঘরামি, কাঞ্চন অধিকারী, রেনুকা ঘরামি। শ্রাবণ মাস থেকেই গাইঘাটা রামনগর পঞ্চায়েতের বিলচাতুরিয়া ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। গত বছরও এখানে কেটেছে পুজোর ক’টা দিন। কারণ পুজোর আগে অতিবৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়েছিল বাড়িঘর। এবারও একই ছবি বিলচাতুরিয়া গ্রামে। দেবীর আরাধনা করা সম্ভব হয় না, অন্য গ্রামে গিয়ে পুজো দেখারও সুযোগ নেই। পুজোয় তাই মায়ের দেখা পান না তাঁরা। দূর থেকেই মায়ের কাছে ওঁদের প্রার্থনা, মা ইছামতী নদী সংস্কার করে দাও। তবেই মিটবে জলযন্ত্রণা। তখন দেখব তোমাকে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ত্রাণ শিবিরের সামনে বসেছিলেন বিজলিরানি ঘরামি। পুজোয় নতুন কাপড়ের কথা জানতে চাইতেই চোখ ছলছল করে উঠল তাঁর। নিজেই বললেন, গত বছরও পুজোতে এখানে কেটেছে। এবারও সেই ত্রাণ শিবির। পুজোয় শিশুদের জন্য একটা জামাও কিনতে পারিনি। নিজে কী করে নতুন কাপড় পরব? জানা গিয়েছে, রামনগর পঞ্চায়েতের বিলচাতুরিয়া ত্রাণ শিবিরে এবছর প্রায় ৩২টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। অধিকাংশ অন্যত্র ঘর ভাড়া নিয়ে চলে গিয়েছেন। তবে এখনও প্রায় ১৫টি পরিবার রয়েছে সেখানে। তাঁদেরই একজন কাঞ্চন অধিকারী বলেন, এবার আর মাকে দেখা হবে না। বাড়িতে জল, রাস্তায় জল। দূরে ঠাকুর দেখতে গেলে অনেক খরচ। ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। কাজ নেই। চাষের জমি জলের তলায়। এই কাপড়ে মাকে দেখতে যাওয়া যায় না। মাকে শুধু বলবো, মা ইছামতী নদী সংস্কার করে দাও। ত্রাণ শিবিরে এসেও নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের। একটি মাত্র পানীয় জলের কল, তাতে আবার অতি পরিমাণে আর্সেনিক। প্রশাসন থেকেই এই কলের জল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবুও বাধ্য হয়ে এই কলের জলই ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এবিষয়ে স্থানীয় রামনগর পঞ্চায়েতের প্রধান আরতি খাঁ বলেন, ওই কলের জল ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে ঠিকই। ওখানে আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকলেও সেটি খারাপ হয়ে গিয়েছে। দ্রুত সেটি সারানোর ব্যবস্থা করা হবে।



