Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘শচীন সিং চোর, টাকা নিয়ে ঝুপড়ি বসিয়েছে’, ঘরহারাদের বিক্ষোভে থানায় ‘আশ্রয়’ নিলেন কাউন্সিলার

‘শচীন সিং চোর, টাকা নিয়ে ঝুপড়ি বসিয়েছে’, ঘরহারাদের বিক্ষোভে থানায় ‘আশ্রয়’ নিলেন কাউন্সিলার
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাথায় হাত। চোখে সব হারানোর বিষণ্ণতা। শনিবার রাত থেকে পরণে একটাই নীল চুড়িদার। আর সব গিয়েছে আগুনের গ্রাসে। ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে বিলাপ করছেন সর্বস্ব হারানো এক গৃহবধূ। জামাকাপড়, আসবাব, কাগজপত্র, শুকনো খাবার—কিছুই অবশিষ্ট নেই। মাথার উপর ছাদ উড়ে গিয়েছে সিলিন্ডার বিষ্ফোরণে। শনিবার রাতে প্রথমে আগুন লেগেছিল নারকেলডাঙার ক্যানাল ওয়েস্ট রোডের একটি পুরনো কাগজের গুদামে। সেই আগুনই ছড়িয়ে পড়ে পাশের ঝুপড়িতে। তাতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পথে বসেছে ঝুপড়িবাসী অনেকগুলি পরিবার। দমকলের তৎপরতায় ঝুপড়ির আগুন নিভলেও ঘরহারাদের ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। রবিবার সকালে তা আরও বড় আকার নেয়। স্থানীয় ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শচীন সিংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা। পরিস্থিতি এমন হয় যে, ঘরহারাদের বিক্ষোভে থানায় গিয়ে ‘আশ্রয়’ নিতে হয় কাউন্সিলারকে। 
Advertisement
এদিন সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে এক প্রৌঢ়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিস। ওই ব্যক্তির নাম হাবিব মোল্লা। বসিরহাটের ন্যাজাটের বাসিন্দা তিনি। কাজের সূত্রে এখানে ছিলেন। একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর সামনেই স্থানীয় ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শচীন সিংয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন ঘরহারারা। মেয়র যখন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন, তখনই উড়ে আসে মারাত্মক অভিযোগ। স্থানীয় এক বাসিন্দাকে বলতে শোনা যায়, ‘শচীন সিং চোর। টাকা নিয়ে ঝুপড়ি বসিয়েছে। ২-৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ঝুপড়ি বসানো হয়েছে এখানে।’ ক্ষোভের আঁচ বাড়তে থাকায় দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যান ফিরহাদ। তারপর গোলমাল আরও বেড়ে যায়। নারকেলডাঙা থানার পুলিসের সামনেই স্থানীয় দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সেই বিক্ষোভের জেরেই থানায় গিয়ে ‘আশ্রয়’ নিতে হয় তৃণমূল কাউন্সিলারকে। পরে ঘরহারাদের পুনর্বাসনের আশ্বাস এলে  শান্ত হয় জনতা। 
শুক্রবার রাত ১০টা বেজে ৪০ মিনিটে খালধারের একটি পুরনো কাগজের গুদামে আগুন লাগে। নিমেষে সেই আগুন আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পণ্যবাহী গাড়িতে। বিকট শব্দে গাড়ির চাকা ফেটে গেলে সেখান থেকে আগুন ছড়ায় ঝুপড়িতে। স্থানীয় বাসিন্দা নাজমা খাতুন বলেন, ‘দমকল সময়ে এলে হয়তো কয়েকটি ঘর বেঁচে যেত। বন্ধ ঘরে পুড়ে মরতে হতো না ভোলুকে (হাবিব মোল্লা)।’ এদিন সকালে অনেককেই দেখা গেল ছাইয়ের স্তূপ হাতড়াতে। যদি কিছু আস্ত থাকে! ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র বাসিন্দাদের কেউ পেশায় রিকশচালক, কেউ অন্যের বাড়ি রান্না করে সংসার চালান। মেয়ের বিয়ের জন্য কিছু টাকা তুলে রেখেছিলেন খুশবু বেগম। সব শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন হাহাকারই তাঁর সঙ্গী। 
এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মেয়র বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়টি দেখা হচ্ছে। পুরসভার তরফে খাবার, ত্রিপল, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ ফিরহাদ চলে যাওয়ার পরই কাউন্সিলার ও স্থানীয় নেতা হায়দারের অনুগামীদের বচসা বাধে। কে ত্রাণ দেবে, তা নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। হায়দারের দাবি, শচীনই টাকার বিনিময়ে এই ঝুপড়ি বসিয়েছেন। কাউন্সিলার এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও বাসিন্দারা তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়েছেন। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ