Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘সদস্য সংগ্রহ অভিযানে রাজ্য নেতৃত্বকে এড়িয়ে চলুন’, জেলা সভাপতির ‘ফতোয়া’   

‘সদস্য সংগ্রহ অভিযানে রাজ্য নেতৃত্বকে এড়িয়ে চলুন’, জেলা সভাপতির ‘ফতোয়া’ 
 
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একের পর এক নির্বাচনে ভরাডুবি। তার মধ্যেই রাজ্যজুড়ে চলছে বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান। তবে যত সংখ্যক সদস্য সংগ্রহের টার্গেট বিজেপি নিয়েছিল, কোনও জেলাতেই সেক্ষেত্রে খুব একটা সাফল্য মেলেনি। এই অবস্থায় যখন দলের সবার একযোগে সদস্য সংগ্রহে ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা, তখন গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কার্যত নতুন মাত্রা পেল। সৌজন্যে দলের বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভাপতি একটি ‘ফতোয়া’! সূত্রের খবর, দলের সাধারণ কর্মী থেকে মণ্ডল সভাপতিদের বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তরুণকান্তি ঘোষ বার্তা দিয়েছেন, তাঁরা যেন সদস্য সংগ্রহ অভিযানে রাজ্য নেতৃত্বকে এড়িয়ে চলেন। কারণ, রাজ্য নেতৃত্ব সদস্য সংগ্রহের নামে সময় অপচয় করছে। এমন বার্তায় চমকে উঠেছেন দলেরই অনেকে। একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে খবর। তাদের দাবি, ঘুরপথে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি বন্ধ করে দিতে চাইছেন জেলা সভাপতি। দলবিরোধী কাজ করছেন তিনি।
Advertisement
মঙ্গলবার বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসাল ভার্চুয়াল বৈঠকে সংগঠন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে খবর। এ রাজ্যে ২০ লক্ষ সদস্য সংগ্রহ হয়েছে বলে তথ্য গিয়েছে কেন্দ্রীয় দপ্তরে। তা নিয়ে যথেষ্ট উষ্মা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাই প্রতিটি জেলাকে সদস্য সংগ্রহে বাড়তি জোর দিতে বলেছেন সুনীল। কিন্তু তার বদলে বারাসতের জেলা সভাপতি তরুণকান্তি ঘোষ কার্যত উল্টো পথ ধরেছেন বলে অভিযোগ উঠছে। মঙ্গলবারের ভার্চুয়াল বৈঠক শেষ হতেই তরুণবাবু দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে লিখেছেন, জেলার সমস্ত মণ্ডল টার্গেট অনুযায়ী সদস্য সংগ্রহ করতে পারেনি। প্রতি বুথে দু’জন করে সক্রিয় সদস্য তৈরি হয়নি। সেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছনোর জন্য ২৭ নভেম্বর থেকে জোরকদমে কাজ শুরু করুন। সব শেষে তিনি লিখেছেন, কয়েকজন স্বঘোষিত রাজ্য নেতা এই কর্মসূচি বানচাল করে দিচ্ছেন। ওই নেতারা বিভিন্ন মণ্ডলে ঘুরে পাঁচ-সাতজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছবি তুলে যাচ্ছেন। কাজের কাজ হচ্ছে না, সময় নষ্ট হচ্ছে। এই কর্মসূচিতে রাজ্য বা জেলার কোনও ভূমিকা নেই। তাই মণ্ডল সভাপতিদের তিনি এক্ষেত্রে রাজ্য নেতৃত্বকে এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। 
বিক্ষুব্ধরা মনে করছেন, রাজ্য নেতৃত্ব বলতে তরুণবাবু তাপস মিত্র, শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়দের বোঝাতে চেয়েছেন। তাঁরা জেলা সভাপতির বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর হিসেবেই পরিচিত।  নয়া বার্তায় ফাঁপরে পড়ে গিয়েছেন তাঁরাও। এক মণ্ডল সভাপতির খেদ, ‘এমনিতেই সদস্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা। তারপর এরকম নির্দেশে আমরা যথেষ্ট চিন্তিত।’ বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, ‘এই নির্দেশ কর্মী বা মণ্ডল সভাপতিদের বড় অংশ মেনে নেয়নি। তারা নির্দেশ উপেক্ষা করেই আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন। উনি কেন এই ধরনের নির্দেশিকা দিয়েছেন, তা বুঝতে পারছি না। এনিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যে আমরা মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছি। লিখিত অভিযোগও জানাব। আর এটা দলবিরুদ্ধ কাজ।’ এনিয়ে কথা বলার জন্য তরুণবাবুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 
সম্পর্কিত সংবাদ