Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

‘সংবিধান নয়, বিজেপির আস্থা মনুস্মৃতিতে’, সরব রাহুল

‘সংবিধান নয়, বিজেপির আস্থা মনুস্মৃতিতে’, সরব রাহুল
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘আমরা সংবিধান নিয়ে চলি। আর ওদের (বিজেপি) বিশ্বাস মনুস্মৃতিতে। বীর সাভারকরের আদর্শই বিজেপির মন্ত্র।’ সংবিধান গ্রহণের ৭৫ বছর পূর্তি নিয়ে শনিবার লোকসভায় আলোচনায় বিজেপিকে ঠিক এই ভাষায় আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী। সুর চড়ালেন সৌগত রায়ও। নরেন্দ্র মোদিকে ‘আজকের সাভারকর’ তকমা দিলেন তিনি। ডিএমকে’র এ রাজাও সাভারকর প্রসঙ্গ তুলে বিঁধলেন বিজেপিকে। বললেন, নেহরুর সওয়াল ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। আর সাভারকরের তত্ত্ব ছিল হিন্দু-মুসলিম। 
Advertisement
তৃণমূলের পক্ষে বলার সুযোগ আদায় করে সৌগত রায় দাগলেন তোপ।  রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, নেতাজির নাম উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন, ‘ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি বলে সংবিধানের অপমান হয়েছে। কিন্তু ওরাও সংবিধানকে অসম্মান করেছে। হিন্দুত্বওয়ালারাদের বাবরি মসজিদ ধ্বংস আর মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়কালে গুজরাত দাঙ্গা। আজকের সাভারকর হলেন মোদি।’ 
মহাভারতের একলব্যর ‘আঙুল কাটা’র প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাহুলের ইঙ্গিতপূর্ণ খোঁচা, মোদি জমানায় তরুণ প্রজন্ম, কৃষক, ছোট ব্যবসায়ীদের আঙুল কাটা হয়েছে। একলব্য ঩যেমন যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ পাননি, তার আঙুল কেটে নেওয়া হয়েছিল, একইভাবে এই সরকার স্রেফ একজন ব্যবসায়ীর জন্যই কাজ করে। অভিযোগ চড়ান রাহুল। শাসক বেঞ্চের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ওরা আঙুল কাটে, আর আমাদের মন্ত্র, অভয় মুদ্রা। ডরো মৎ। নিজের ডান হাত তুলে দেখান রাহুল।’ জানিয়ে দেন, ‘ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন সাভারকর বিরোধী। তিনি ছোটবেলায় আমায় বলেছিলেন, গান্ধীজি, নেহরু স্বাধীনতা সংগ্রামে জেলে গিয়েছিলেন। আর সাভারকার ব্রিটিশকে চিঠি লিখে ক্ষমা আত্ম সমর্পণ করেছিলেন। আর বিজেপি সেই সাভারকরের নীতিতে সংবিধানকে আঘাত করে। ধর্মে ধর্মে বিভেদ ঘটায়। পারস্পরিক লড়াই লাগায়।’ তবে মোদি সরকারের এই বিভাজনের নীতি রুখবই জানিয়ে লোকসভায় রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে রাহুল বলেন, ‘শুনে রাখুন, আমরা জাতি জনগণনা করেই ছাড়ব। ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের সীমাও তুলে দেব।’
রাহুলের বক্তৃতার সময় মাঝেমধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে প্রতিবাদের আওয়াজ শোনা যায়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও হয় পাল্টা প্রতিবাদ। যা নিয়ে সামান্য হই হট্টগোলও হয় লোকসভায়। বক্তৃতায় যখন ধীরে ধীরে সুর চড়াচ্ছেন, আচমকাই দেখা গেল, তা শেষ করে দিলেন রাহুল। কেমন যেন অসম্পূর্ণ শোনাল বিরোধী দলনেতার বক্তব্য। যদিও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নিজের আসন থেকে সামনের আসনে এসে দাদাকে দিলেন বাহবা।
সম্পর্কিত সংবাদ