নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভায় সংবিধান নিয়ে আলোচনার জবাবি ভাষণে কংগ্রেসকে জুমলাবাজ আখ্যা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার রাজ্যসভায় সংবিধান নিয়ে আলোচনায় প্রত্যাঘাত করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বললেন, দেশের মধ্যে এক নম্বর মিথ্যাবাদী হলেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। খাড়্গে এদিন বলেন, আপনার মতো জুমলা আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারবেন না। কোথায় গেল আপনার সেই ১৫ লক্ষ টাকা সব দেশবাসীর অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ঘোষণা? কোথায় গেল আপনার সেই বছরে ২ কোটি চাকরির ফানুস। আমরা নই, মিথ্যার বেসাতি আপনি করেন। খাড়্গে এদিন বিজেপি এমপিদের লক্ষ্য করে বলেন, আপনারা আর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ঢাক বাজাবেন না। যেভাবে আপনারা ঢাক বাজান, সেটা থেকে বোঝাই যায় যে আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বৈরতন্ত্রী করে তুলতে একেবারে উঠেপড়ে লেগেছেন। আর উনিও ডিক্টেটর হওয়ার জন্য তৈরি আছেন। ঢাক বাজাবেন না, কারণ স্বৈরতন্ত্রের ধাঁচে গণতন্ত্র চলা উচিত নয়। যারা সংবিধান অনুযায়ী চলতে চায়, তারা সংবিধানকেই সর্বোচ্চ মান্যতা দেবে। বিশেষ একজনকে নয়।
Advertisement
খাড়্গের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী নিজে সংবিধান মেনে চলেন? চলেন না। অথচ উনি সুযোগ পেলেই আমাদের জ্ঞান দিচ্ছেন। দেশের জন্য মোদিজি ক’বার জেলে গিয়েছেন? কী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। যাঁরা দেশের জন্য কোনওরকম আত্মত্যাগই করেনি তাঁদের কাছে আমরা জ্ঞান শুনব কেন? খাড়্গের প্রশ্ন, গান্ধী-নেহরু পরিবারকে তো লাগাতার সুযোগ পেলেই আক্রমণ করেন। রাহুল গান্ধী মণিপুরে গিয়ে পদযাত্রা করেছেন। আপনি কী করেছেন? একবারও মণিপুরে পা রেখেছেন? আপনি তো স্বীকারই করেন না, আদৌ কোনও সমস্যা মণিপুরে আছে। ১৯৫১ সালে কেন সংবিধান সংশোধন করেছিলেন নেহরু, এই প্রশ্ন তুলে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রবল আক্রমণ করেছিলেন কংগ্রেসকে। দাবি করেছিলেন, আম্বেদকরকে অপমান করাই ছিল উদ্দেশ্য। রাজ্যসভায় সোমবার খাড়্গে জবাবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারাক্ষণ অতীতেই বাস করেন। তিনি বর্তমান নিয়ে ভাবেন না। কারণ বর্তমান নিয়ে কথা হলেই ধরা পড়ে যাবেন যে, তিনি ব্যর্থ। কিন্তু অতীত নিয়ে কথা বললেও একটু পড়াশোনা করা দরকার। ১৯৫০ সালে স্বয়ং বল্লভভাই প্যাটেল জওহরলাল নেহরুকে চিঠি লিখে বলেছিলেন, সংবিধান সংশোধনী না করলে বেশ কিছু সমস্যার সমাধান হবে না। ওটাই একমাত্র পথ। মোদিজি হয় এসব জানেন না। নতুবা জেনেও মিথ্যা বলেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করাই মোদিজির ১০ বছরের অভ্যাস।



