নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: রক্তের সঙ্কটে ভুগছে পুরুলিয়া জেলা। রক্তের জন্য হাহাকার চলছে জেলার সর্বত্র। প্রতিদিন কত শত রোগীর পরিজনেরা পুরুলিয়া দেবেন মাহাত হাসপাতাল কিংবা রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারে এসে ঘুরে যাচ্ছেন, তার ইয়ত্তা নেই। রক্তের খোঁজে কোনও রোগীর পরিজন এলে ব্লাড সেন্টারের কর্মীদের একটাই উত্তর, ‘রক্ত নেই’। প্রশ্ন উঠছে, জেলার গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে রক্তের হাহাকার তৈরি হচ্ছে কেন? তাছাড়া এখনই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে গ্রীষ্মকালে কী হবে? কেন এনিয়ে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন? রাজনৈতিক দলগুলিই বা কী করছে?
Advertisement
পুরুলিয়া দেবেন মাহাত হাসপাতলের ব্লাড সেন্টারে গেলেই দেখা যায়, একবোতল রক্তের জন্য কার্যত মাথা খুঁড়ছেন বহু মানুষ। রক্ত না পেয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে বহু জটিল অপারেশন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন থ্যালাসেমিয়া রোগীরা। দিনকতক আগেই বি-পজিটিভ রক্তের জন্য ব্লাড সেন্টারের সামনে কার্যত ধরনা দিয়ে পড়েছিলেন আড়ষা ব্লকের এক গৃহবধূ। তাঁর মেয়ে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। তিনদিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর ডোনারের সন্ধান মেলে। গৃহবধূ বলছিলেন, প্রতি ১০-১২ দিন অন্তর রক্ত দিতে হয় মেয়েকে। রক্ত দেওয়ার পরের দিন থেকেই ফের ডোনারের খোঁজ শুরু করতে হয়। ডোনার জোগাড় করতে করতে নাওয়া খাওয়া ভুলতে হয়েছে। ওই দিনই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ১৫বছরের ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন বাঘমুণ্ডির সুইসার বাসিন্দা দুলালচন্দ্র কুইরি। কিন্তু রক্ত না পেয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকেও। দুলালবাবু বলেন, সুইসা থেকে পুরুলিয়া আসতে একজনের ৮০টাকা বাস ভাড়া লাগে। ছেলেকে নিয়ে পুরুলিয়া আসা ও যাওয়া মিলিয়ে শুধু ভাড়া বাবদই ৩২০ টাকা খরচ হয়। এত টাকা খরচ করে এসেও যদি রক্ত না পাই, তাহলে আমরা কী করব? কোথায় যাব? শুধু থ্যালাসেমিয়া রোগীই নয়, কেউ পথ-দুর্ঘটনায় জখম স্বামীর জন্য, কেউ প্রসূতি স্ত্রীর জন্য, কেউ মায়ের অপারেশনের জন্য রক্তের খোঁজে হাসপাতালে আসেন। কিন্তু প্রত্যেককেই রক্ত না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। এটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরুলিয়ায়।
দেবেন মাহাত হাসপাতালের সুপার সুকোমল বিষই মানছেন, রক্তের প্রবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা এমনিতেই অনেক কমে গিয়েছে। মাসে ১০টাও শিবির হয় না। যে কয়েকটি শিবির হয়, তাতে রক্তদাতার সংখ্যা অনেক কম থাকে। জোগানের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। তাই সঙ্কট রয়েই গিয়েছে। জেলার স্বাস্থ্যদপ্তরের এক কর্তা জানান, প্রতিদিন অন্তত ৪০জন রক্তের খোঁজে দেবেন মাহাত হাসপাতালে আসেন। প্রতি মাসে শুধুমাত্র থ্যালাসমিয়া রোগীদের জন্যই ৩৫০ ইউনিটের বেশি রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা পূরণ করতে পারি না আমরা।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, পুরুলিয়া জেলায় চারটি মহকুমা। কিন্তু ঝালদা ও মানবাজারে কোনও বড় হাসপাতাল নেই। আছে বলতে সেই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সেখানে আবার ব্লাড সেন্টার নেই। শুধুমাত্র পুরুলিয়া ও রঘুনাথপুরেই ব্লাড সেন্টার রয়েছে। অথচ দুই জায়গাতেই একই অবস্থা। দেবেন মাহাত হাসপাতালের সুপার বলেন, জেলাস্তরের একটি সাম্প্রতিক বৈঠকে এই ব্যাপারটি উত্থাপন করা হয়েছিল। সমস্ত ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, বিডিওদেরও দায়িত্ব নিয়ে মাসে অন্তত সাতটা শিবির করার টার্গেট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা পূরণ হয় না।
দেবেন মাহাত হাসপাতালের সুপার সুকোমল বিষই মানছেন, রক্তের প্রবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা এমনিতেই অনেক কমে গিয়েছে। মাসে ১০টাও শিবির হয় না। যে কয়েকটি শিবির হয়, তাতে রক্তদাতার সংখ্যা অনেক কম থাকে। জোগানের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। তাই সঙ্কট রয়েই গিয়েছে। জেলার স্বাস্থ্যদপ্তরের এক কর্তা জানান, প্রতিদিন অন্তত ৪০জন রক্তের খোঁজে দেবেন মাহাত হাসপাতালে আসেন। প্রতি মাসে শুধুমাত্র থ্যালাসমিয়া রোগীদের জন্যই ৩৫০ ইউনিটের বেশি রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা পূরণ করতে পারি না আমরা।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, পুরুলিয়া জেলায় চারটি মহকুমা। কিন্তু ঝালদা ও মানবাজারে কোনও বড় হাসপাতাল নেই। আছে বলতে সেই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সেখানে আবার ব্লাড সেন্টার নেই। শুধুমাত্র পুরুলিয়া ও রঘুনাথপুরেই ব্লাড সেন্টার রয়েছে। অথচ দুই জায়গাতেই একই অবস্থা। দেবেন মাহাত হাসপাতালের সুপার বলেন, জেলাস্তরের একটি সাম্প্রতিক বৈঠকে এই ব্যাপারটি উত্থাপন করা হয়েছিল। সমস্ত ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, বিডিওদেরও দায়িত্ব নিয়ে মাসে অন্তত সাতটা শিবির করার টার্গেট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা পূরণ হয় না।



