সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: বাগদা বাজারে রিকশ চালান সদু সর্দার। তাঁর ছেলে সঞ্জয় এখন কলকাতা পুলিসের সার্জেন্ট পদে কর্মরত। দেড়শ বছরের কলকাতা পুলিসের ইতিহাসে এ এক বিরল নজির। বাগদার আদিবাসী পাড়া থেকে কলকাতার রাজপথ— সঞ্জয় সর্দারের এই উত্থান-কাহিনি যে কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাতে পারে।
Advertisement
তবে বাস্তবের মাটিতে সঞ্জয়ের লড়াই এত সহজ ছিল না। প্রতিবেশিরা বলতেন, এখন ‘টাকা’ না দিলে চাকরি হয় না। এরকম পরিমণ্ডলে দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘এমন দিন গিয়েছে যেদিন দু’বেলা ঠিক মতো খাবারও জোটেনি। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই বাবা-মা পড়াশোনা বন্ধ করতে দেননি। অভাবের মধ্যেও বই কিনে দিয়ে গিয়েছেন।’ গিরগিটির মতো রং বদলানো এই দুনিয়ায় সঞ্জয় কলকাতা পুলিসের সার্জেন্ট পদে চাকরি পেতেই বদলে গিয়েছে চেনা জগতটা। রিকশচালক হওয়ার সুবাদে যাঁরা এতকাল বাগদা বাজারে সঞ্জয়ের বাবার (সদু সর্দারের) সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতেন না, তাঁরা এখন ডেকে যেচে কথা বলেন। দিন পরিবর্তনের পর এই পর্বে গর্বে বুক ভরে ওঠে বাবার-বলেন দক্ষতার সঙ্গে কলকাতা পুলিসে সদ্য ট্রেনিং শেষ করা সঞ্জয়বাবু।
২০১৮ সালে গোবরডাঙা কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্স নিয়ে স্নাতক হন সঞ্জয়। তারপর শুরু হয় চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি। অভাবের জন্য সব বই কিনতে পারতেন না। যেতেন বাগদার প্রগতি পাঠাগারে। সেভাবে পড়ে পরীক্ষায় পাশ করেন। প্রথমে রাজ্য পুলিসে কনস্টেবল পদে চাকরি পান। চার মাস ট্রেনিংয়ের পর কলকাতা পুলিসের সার্জেন্টের চাকরি হয়। সঞ্জয় শুধু নয়, তাঁর বোনও কলকাতা পুলিসে কনস্টেবল পদে যোগ দিয়েছেন চলতি বছরে।
কলকাতা পুলিসের ওয়্যারলেসে পোস্টিং পাওয়া সঞ্জয় সর্দারের জীবন সংগ্রামের কাহিনি আগামী দিনে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। তবে বলেন, লড়াই এখনও থামেনি। এলাকার বেকার ছেলেমেয়েরা যাতে সরকারি চাকরি পান তার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সার্জেন্টের চাকরি পেতেই বদলে গিয়েছে তাঁর জগত। বদলে যাওয়া জগতের সঙ্গে এখনও ভাল করে তাল মেলাতে পারেন না। তবে সতীর্থ থেকে সিনিয়র অফিসারদের অকপটেই বলেন, ‘আমার বাবা রিকশ চালক। এতদিন আমার পরিচয় ছিল, আমি রিকশ চালকের ছেলে। এখন সবাই বাবাকে দেখে বলে, সার্জেন্টের বাবা!’ সত্যি কি বিচিত্র দুনিয়া! -নিজস্ব চিত্র
২০১৮ সালে গোবরডাঙা কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্স নিয়ে স্নাতক হন সঞ্জয়। তারপর শুরু হয় চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি। অভাবের জন্য সব বই কিনতে পারতেন না। যেতেন বাগদার প্রগতি পাঠাগারে। সেভাবে পড়ে পরীক্ষায় পাশ করেন। প্রথমে রাজ্য পুলিসে কনস্টেবল পদে চাকরি পান। চার মাস ট্রেনিংয়ের পর কলকাতা পুলিসের সার্জেন্টের চাকরি হয়। সঞ্জয় শুধু নয়, তাঁর বোনও কলকাতা পুলিসে কনস্টেবল পদে যোগ দিয়েছেন চলতি বছরে।
কলকাতা পুলিসের ওয়্যারলেসে পোস্টিং পাওয়া সঞ্জয় সর্দারের জীবন সংগ্রামের কাহিনি আগামী দিনে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। তবে বলেন, লড়াই এখনও থামেনি। এলাকার বেকার ছেলেমেয়েরা যাতে সরকারি চাকরি পান তার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সার্জেন্টের চাকরি পেতেই বদলে গিয়েছে তাঁর জগত। বদলে যাওয়া জগতের সঙ্গে এখনও ভাল করে তাল মেলাতে পারেন না। তবে সতীর্থ থেকে সিনিয়র অফিসারদের অকপটেই বলেন, ‘আমার বাবা রিকশ চালক। এতদিন আমার পরিচয় ছিল, আমি রিকশ চালকের ছেলে। এখন সবাই বাবাকে দেখে বলে, সার্জেন্টের বাবা!’ সত্যি কি বিচিত্র দুনিয়া! -নিজস্ব চিত্র



