Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

‘রাহুল খুব কাছে দাঁড়ানোয় অস্বস্তি হচ্ছিল’,  অভিযোগ বিজেপির মহিলা সাংসদের

‘রাহুল খুব কাছে দাঁড়ানোয় অস্বস্তি হচ্ছিল’,  অভিযোগ বিজেপির মহিলা সাংসদের
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:  ‘রাহুল গান্ধী আমার এত কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন যে, আমার অস্বস্তি হচ্ছিল। আমি নিজেকে রক্ষা করতে পারছিলাম না। রাহুল ক্রমাগত চিৎকার করছিলেন। এটা লোকসভার বিরোধী দলনেতার আচরণ হতে পারে না।’ বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ ভবন চত্বরের অভিজ্ঞতা রাজ্যসভায় বলতে গিয়ে চোখে জল বিজেপির মহিলা সাংসদ এস পি কোনিয়াকের। বিজেপির অভিযোগ, রাহুল তথা অন্যান্য কংগ্রেস সাংসদের ধাক্কাধাক্কিতে তাদের দু’জন এমপি আহত হয়েছেন। বিজেপির মহিলা সাংসদের সঙ্গেও রীতিমতো অভব্য আচরণ করেছেন রাহুল। সংসদ ভবন চত্বরের নাটকীয়তা পরিস্থিতি ঘিরে এদিন শুরুতেই মুলতুবি হয়ে যায় লোকসভা এবং রাজ্যসভার কাজ। বেলা ২টোয় ফের শুরু হয় সংসদের দুই কক্ষের সভা। 
Advertisement
সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে নাগাল্যান্ডের মহিলা সাংসদ এস পি কোনিয়াককে বলার অনুমতি দেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকার। বিজেপি ও কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সদস্যরা ততক্ষণে ওয়েলের কাছে চলে আসেন। স্লোগান, পাল্টা স্লোগানের মধ্যে বিজেপি বলে, কোনওরকম ‘গুণ্ডাগিরি’ বরদাস্ত করা হবে না। বিরোধীরা স্লোগান দেয়, বাবাসাহেব আম্বেদকরের অপমান মেনে নেওয়া হবে না। তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই অভিজ্ঞতা ‘শেয়ার’ করেন কোনিয়াক। বিজেপির ঘনশ্যাম তিওয়ারি কোনিয়াকের কান্না নিয়ে চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। চেয়ারম্যান কোনিয়াককে তাঁর চেম্বারে এসে বিস্তারিতভাবে জানাতে বলেন। পরে ধনকারকে দেওয়া চিঠিতে কোনিয়াক দাবি করেন, এদিনের ঘটনায় তাঁর শালীনতা এবং আত্ম-মর্যাদার উপর প্রভাব পড়েছে। 
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, বিজেপির মহিলা সাংসদকে ধাক্কা মারা হয়েছে, অভব্য আচরণ করা হয়েছে। সংসদ ভবন চত্বরে রক্তপাত ঘটিয়েছে কংগ্রেস। এজন্য ক্ষমা চাইতে হবে কংগ্রেসকে। পাল্টা অমিত শাহর ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন কংগ্রেস এমপিরা। রিজিজু বলেন, সংসদ কুস্তির আখড়া নয়। আমরা সংখ্যাতেও বেশি। যদি পাল্টা হাতাহাতি করতাম, তাহলে কী হতো? উঠে দাঁড়ান রাজ্যসভার নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও। তিনি বলতে থাকেন, মহিলা সাংসদকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এজন্য নিন্দা প্রস্তাব আনতে চাই। ডিএমকের রাজ্যসভার সাংসদ তিরুচি শিবা কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দেন। তুমুল হট্টগোলের জেরে সারাদিনের জন্যই মুলতুবি হয়ে যায় রাজ্যসভার কাজ। মুলতুবি হয় লোকসভাও।
সম্পর্কিত সংবাদ