Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

‘ওয়াল’ কেজরির পতনের পর শেষ দুর্গ মমতাই টার্গেট মোদির

‘ওয়াল’ কেজরির পতনের পর শেষ দুর্গ মমতাই টার্গেট মোদির
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কখনও সরাসরি প্রতিপক্ষ হয়ে। কখনও বন্ধুর ছদ্মবেশে। মনে হতেই পারে বিজেপির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কংগ্রেস। কিন্তু রাজ্যে রাজ্যে শক্তিশালী আঞ্চলিক দলকে ধ্বংস করাও বিজেপির অন্যতম প্রধান টার্গেট। একঝাঁক রাজ্য রয়েছে, যেখানে কংগ্রেস নয়, এই আঞ্চলিক দলগুলিই বিজেপির পথের কাঁটা। একে একে সেই কাঁটা সরিয়েছে বিজেপি। দুর্বল করেছে আঞ্চলিক দলগুলিকে। ১০ বছর ধরে বন্ধুত্ব পাতিয়ে ধ্বংস হয়েছে নবীন পট্টনায়কের বিজু জনতা দল। মিত্রতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া মায়াবতী এখন ভারতীয় রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক। উত্তরপ্রদেশে পরাজিত হয়েছেন অখিলেশ যাদবও। তেজস্বী যাদবকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে সমর্থ হয়েছে বিজেপি। নীতীশ কুমারের সঙ্গে জোট করে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে রেখে দিলেও নীতীশকুমারের দলকে দুর্বল করে দিতে সমর্থ হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। মহারাষ্ট্রের উদ্ধব থ্যাকারে, শারদ পাওয়ারের দলকেই ভেঙে দিয়ে তাঁদের হীনবল করার কাজ সমাপ্ত। কর্ণাটকে এইচ ডি দেবগৌড়ার দলের কোনও গুরুত্বই অবশিষ্ট নেই। অবশেষে আম আদমি পার্টি। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ১০ বছর পরে ক্ষমতাচ্যুত করলেন নরেন্দ্র মোদি।
Advertisement
কংগ্রেস যে রাজ্যেই বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াই করে, সেখানেই পরাস্ত হয়। একমাত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছিল আঞ্চলিক দলগুলি মোদির সঙ্গে টক্কর দিচ্ছে অনেক বেশি শক্তি নিয়ে। এবার আঞ্চলিক দল বধের বিজেপির অপারেশন তালিকায় আম আদমি পার্টিও প্রবেশ করল। আর দিল্লির মতো দেড় কোটি ভোটারের ক্ষুদ্র রাজ্য তথা শহরের ভোটের পর গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের চোখ থাকবে আগামী বছর একটিই রাজ্যের দিকে। বাংলা। কারণ এখনও পর্যন্ত দেশের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপরাজেয়। তাঁকে ২০১৪ সালের পর থেকে লোকসভাই হোক, অথবা বিধানসভা ভোট, একবারও পরাজিত করতে পারেননি মোদি। বস্তুত বাংলাকে জয় করার চেষ্টার কসুর কম করেনি বিজেপি। একের পর এক কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযান, নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার, মামলা, আয়কর হানা। অবিরত বিভিন্ন ইস্যুতে আক্রমণ। কিন্তু ভোটের ময়দানে বারংবার প্রত্যাখ্যাত মোদি। লোকসভা ভোটে মুখ থুবড়ে পড়ার পর একের পর এক উপনির্বাচনেও পরাজিত হয়েছে বিজেপি। দিল্লিতে আপের পরাজয়ের পর তাই জোরদার চর্চা শুরু হয়েছে বাংলার রাজনীতি নিয়ে। ২০২৬ সালেও বাংলা থেকে বিজেপি প্রত্যাখ্যাত হলে এটা নিশ্চিত হয়ে যাবে যে মোদির রাজনৈতিক কেরিয়ারে বাংলা অধরাই রয়ে যাবে! সুতরাং মোদির কাছে এবার যে পাখির চোখ বাংলা, সেটা নিয়ে সংশয় নেই। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ