Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘অলআউট’ ঝাঁপাচ্ছে রানাঘাট পুলিস জেলা

‘অলআউট’ ঝাঁপাচ্ছে রানাঘাট পুলিস জেলা
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের পোক্ত ভিত নাড়াতে এবার অলআউট ঝাঁপাচ্ছে পুলিস। তার অংশ হিসেবেই গাংনাপুর থানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায় ধানতলা থানার পুলিস। তাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত তিন দালালকে। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির কারণে লাগাতার বেড়েছে অনুপ্রবেশ। কাঁটাতার বিহীন এবং জটিল সীমান্ত ব্যবহার করে আকছার পড়শি দেশ থেকে এই দেশে ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। আর এই বেআইনি সীমান্ত পারাপার চলছে মানব পাচার চক্রের দালালদের সহায়তায়। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে রীতিমতো চড়া দর হেঁকে বাংলাদেশি নাগরিকদের বেআইনি পথে এই দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় সক্রিয় একাধিক দালাল চক্র। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযানে খানিকটা হলেও চোরা পথে এই দেশে আসার গ্রাফ নেমেছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই এবার দালাল চক্র দমনে উদ্যত রানাঘাট জেলা পুলিস। এক প্রকার অলআউট ঝাঁপিয়ে পাচারকারীদের রমরমা ব্যবসায় ইতি টানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে ধানতলা থানার একটি বিশেষ দল অভিযান চালায় নিজেদের থানায় এলাকা এবং গাংনাপুর থানা এলাকার পুটখালি এলাকায়। সেই অভিযানে গ্রেপ্তার হয় আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত তিন সক্রিয় দালাল। ধৃতদের নাম কাশেম শেখ, আশিক শেখ এবং আবুজেল মণ্ডল। এদের মধ্যে কাশেম এবং আশিক দীর্ঘদিন ধরে গাংনাপুর থানা এলাকার আইসমালির বাসিন্দা। মোটা টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে নিয়ে আসার বন্দোবস্ত করতো তারা। এছাড়াও ধৃত আবুজেল ধানতলা থানায় এলাকার বাসিন্দা। বাকিদের সঙ্গে ধানতলায় আন্তর্জাতিক সীমান্তে পাচার চক্র অপারেট করত সে। সম্প্রতি ধৃত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তিনজনের নাম প্রকাশ্যে আসে। এরপর সেইমতো মঙ্গলবার রাতে বিশেষ অভিযান চলায় ধানতলা থানা। তদন্তকারীরা দেখেছেন, আদতে দালাল চক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে টোটো চালায় অথবা আর পাঁচটা সাধারণ পেশার সঙ্গে যুক্ত। এইসব পেশার আড়ালেই চলে তাদের মূল কারবার। 
প্রসঙ্গত, নভেম্বর থেকে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে পুলিস। তাঁরা জানাচ্ছেন, গত বেশ কয়েক বছরের নথি নাড়াচাড়া করে দেখা গিয়েছে অনুপ্রবেশের পৌষ মাস চলছিল বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থির হওয়ার পর থেকে। শুধুমাত্র হাসখালি, ধানতলা এবং গাংনাপুর থানা এলাকার থেকেই অভিযান চালিয়ে দুই মাসে গ্রেফতার করা হয় ৩৩ জন দালালকে। এছাড়াও প্রায় ৭০ জনের কাছাকাছি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীও ধরা পড়ে পুলিসের জালে। ২০২৪ সালে সব মিলিয়ে প্রায় ৫২টি অনুপ্রবেশের মামলা দায়ের হয়েছে কেবলমাত্র রানাঘাট পুলিস জেলাতেই। জানুয়ারিতে অবশ্য নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের তুলনায় কিছুটা হলেও নেমেছে অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হওয়ার গ্রাফ। এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছেন তদন্তকারীরা। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট জেলা পুলিসের এক পদস্থ কর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে দালাল চক্র সমূলে উৎখাত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। একের পর এক দালাল সাম্প্রতিককালে ধরা পড়েছে তদন্তকারীদের জালে। তার জেরে কিছুটা হলেও কমেছে অনুপ্রবেশ। আপাতত বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় দালালদের গ্রেপ্তার করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ