Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘নিজের বুথেই জেতার ক্ষমতা নেই, অথচ সংগঠনের বড় পদে’, বেসুরো বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি

‘নিজের বুথেই জেতার ক্ষমতা নেই, অথচ সংগঠনের বড় পদে’, বেসুরো বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বেসুরো বীরভূম বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একজনের পোস্ট শেয়ার করে বিষোদাগার করেছেন তিনি। দলীয় নেতৃত্বদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যা নিয়ে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবিরের জেলা নেতৃত্বরা। 
Advertisement
বিজেপির জেলার নেতৃত্বদের ভূমিকা নিয়ে দলেরই একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং সংবাদ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে চলেছে। যার জেরে কাউকে বহিষ্কার আবার কাউকে নিস্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। তবে তাঁরা কেউই অন্যদলে যাননি। কেউ কেউ আবার সরাসরি জেলা নেতৃত্বদের আক্রমণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, দিনে দলের ঝান্ডা ধরে রাতে তৃণমূলের দালালি করে এই জেলায় বিজেপি দলটাকে শেষ করছে। সম্প্রতি সদস্যতা অভিযানে তাঁদের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে। দলের বহু কার্যকর্তা নিষ্ক্রিয় থেকেছে। 
এদিকে বিজেপি সূত্রের খবর, ৭ ফ্রেবুয়ারি একাধিক মণ্ডল সভাপতি পরিবর্তন হওয়ার কথা। কারা সেই সমস্ত পদে বসবেন তা এখন নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে ঘুরছে। যা নিয়ে দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামনে আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা বর্তমান জেলা কমিটির সদস্য রামকৃষ্ণ রায় নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট শেয়ার করে দলের অন্দরে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন। তন্ময় কুণ্ডল নামে একজনের পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। তাতে লেখা রয়েছে, বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতার সব থেকে বড় কারণ হল, যার নিজের বুথে লিড নেই, সেই সংগঠনের বড় পদে। দলের অনেকেই এই পোস্টে লাইক দিয়েছেন। তাঁর এই পোস্ট শেয়ার প্রসঙ্গে রামকৃষ্ণবাবু বলেন, এটা তো বাস্তব, যারা কোনওদিন বুথের দায়িত্ব নেয়নি, নিজের বুথে কোনওদিনই জিততে পারেনি তাঁরা আজ বড় বড় নেতা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বরা নিশ্চয়ই ভাববে যে, বুথস্তরে পৌঁছতে না পারলে ভোটের ফলাফল খারাপ হবে। সেটা সবাই বুঝেও গিয়েছে। এরপরই তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ওঁরা যেভাবে মিটিং, মিছিলে ডাকে সেটা আমার পচ্ছন্দ নয়। দুবরাজপুরে সংগঠন মার খাচ্ছে সেটা একবারও আমাকে বলছে না যে আপনাকে এখানকার দায়িত্ব দেওয়া হল, দেখুন। 
অন্যদিকে, বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য কাঞ্চন ঘোষ তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, তোলাবাজ, বুথের টাকা, বার্ধক্য, বিধবাভাতার টাকা খাওয়া লোকটিকে পুনরায় মণ্ডল সভাপতি করার জন্য জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে ধন্যবাদ। পাশাপাশি তিনি লিখেছেন আজ থেকে আমাকে রাজনৈতিক কোনও পোস্ট ট্যাগ করবেন না। যদিও এই পোস্ট প্রসঙ্গে কাঞ্চনবাবু বলেন, জেলা সভাপতি মাধ্যমে জানতে পেরেছি রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলের নেতৃত্ব এখানে সঞ্জয় নন্দীকে মণ্ডল সভাপতি করা হচ্ছে। তারজন্যই এই পোস্ট। যদিও জেলার বাসিন্দা শ্যামাপদবাবু বলেন, মণ্ডল সভাপতি হওয়ার তালিকায় কাঞ্চনেরও নাম ছিল। কিন্তু ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বের কাউকে এই পদের দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে দলের নিয়ম রয়েছে। তাতেই বাদ পড়েছেন কাঞ্চন। এখন নিজে হতে না পারায় এইসব পোস্ট করছেন। 
অন্যদিকে, রামকৃষ্ণবাবুর পোস্ট শেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রামকৃষ্ণবাবুর বুথে হার-জিৎ কী অবস্থায় আছে জানি না। তবে কর্মদক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা সহ নানা দিক দেখে কাউকে মণ্ডল সভাপতি করা হয়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ