Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘কোর কমিটিই জেলা চালাবে’, অনুব্রতর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কাজল

‘কোর কমিটিই জেলা চালাবে’, অনুব্রতর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কাজল
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বোলপুর: বীরভূমের জেলা রজানীতিতে কেষ্ট-কাজলের আদায় কাঁচকলা সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। এতদিন শাসকদলের গোষ্ঠী সমীকরণ মেনে উভয়ের অম্ল-মধুর দ্বন্দ্ব লেগেই থাকত। এবার সেই লড়াই এসে পড়ল একেবারে প্রকাশ্যে। জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর বিরুদ্ধে রীতিমতো খড়্গহস্ত জেলা সভাধিপতি কাজল শেখ। কেষ্টর নাম না করে বলেই ফেললেন, ‘চক্রান্তকারী’!
Advertisement
কিন্তু কি এমন ঘটল, যে কাজল এতটা বিস্ফোরক হয়ে উঠলেন? রাজনৈতিক শিবিরের ব্যাখ্যা, জেল থেকে ফিরে আসা ইস্তক অনুব্রত জেলা পরিষদের কাজকর্ম নিয়ে মাঝেমধ্যে উষ্মা প্রকাশ করতেন। এবার তিনি সরাসরি বলে ফেলেছেন—‘জেলা পরিষদ এখন একাদশতম স্থানে নেমে গিয়েছে। তাই দায়িত্ব নিতে হবে।’ স্বাভাবিকভাবেই অনুব্রতর এমন ইচ্ছে মেনে নিতে পারেননি কাজল। সিউড়িতে তড়িঘড়ি সাংবাদিকদের ডেকে সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্য নেতৃত্ব থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোর কমিটির নেতৃত্বেই চলবে বীরভূম জেলা। সেই সঙ্গে নাম না নিয়ে অনুব্রতকে ‘চক্রান্তকারী’ বলতেও দ্বিধা করেননি কাজল। যা সাম্প্রতিককালে নজিরবিহীন বলেই মত রাজনীতির কারবারিদের।   অনুব্রতর অবর্তমানে জেলায় দল পরিচালনার জন্য কোর কমিটি গঠন করে দেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। সেখানে ঠাঁই পান কাজল। কিন্তু অনুব্রত ফিরে আসতেই পরিস্থিতির বদল ঘটে। কিছুদিনের মধ্যে ডব্লিউবিএসআরডিএ-এর চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় মনোনীত হন তিনি। এরই মধ্যে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তালিকায় জেলা পরিষদের অবনমন হয়। দিন কয়েক আগে তিনি দাবি করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী ফোন করে তাঁকে পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোটের দায়িত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের বড়ঞাও দেখতে বলেছেন। জেলা পরিষদের কাজকর্ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জানিনা কেন পিছিয়ে গেল। তাই জেলা পরিষদটাকেও নতুন করে দেখতে হবে।’ তাঁর যুক্তি, বিকাশ রায়চৌধুরীর আমলে চারবার কেন্দ্রীয় পুরস্কার পেয়েছিল বীরভূম। ‌অর্থাৎ রাজ্য তো বটেই দেশের মধ্যেও অন্যতম সেরার জায়গা আদায় করেছিল বীরভূম। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪-১৫,  ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে কেন্দ্র সরকারের দীনদয়াল উপাধ্যায় স্বশক্তিকরণ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছিল জেলা পরিষদ। পাশাপাশি, চার বার ৫০ লক্ষ টাকা করে মোট দুই কোটি টাকাও পেয়েছিল। সেই অর্থ জেলার উন্নয়নে কাজে লাগে। এমনটাই দাবি করেছেন প্রাক্তন সভাধিপতি। তিনি বলেন, ‘বাম আমল শেষে যখন দায়িত্বভার নিয়েছিলাম তখন বীরভূম ছিল অন্যতম পিছিয়ে পড়া জেলা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের প্রচেষ্টায় বীরভূম ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। সেই কারণেই চারবার কেন্দ্রের পুরস্কার লাভ।’ 
কাজলও এদিন জেলা পরিষদের পিছিয়ে পড়ার কথা মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই অবনমন অত্যন্ত সাময়িক। জেলা পরিষদ খুব তাড়াতাড়ি ঘুরে দাঁড়াবে। তবে আমি বলব, বিষয়টি নিয়ে যাঁরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে নিশ্চয়ই দুষ্টুচক্র কাজ করছে। তাঁরা কাজ করতে পারছে না বলেই জেলার বদনাম করছে।’ এর পর নাম না করে অনুব্রতকে নিশানায় রেখে কাজল বলেন, ‘যিনি বক্তব্য রাখছেন তাঁকে বলব, আঙ্গুর ফল টক বলেই চক্রান্ত করছেন। জেলা নেতৃত্বের মধ্যে একটা সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে। অকারণে বাড়ছে বোমাবাজি, কোথাও পুলিসকে মারা হচ্ছে। কয়েক মাস আগেও যা ছিল না।’ এরপরই কাজল মুখ খোলেন ‘জেলা পরিষদের দায়িত্ব’ নেওয়ার প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, কোর কমিটি করে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বীরভূম পরিচালনা করছেন। আমি সেই কমিটির একজন সদস্য। যতক্ষণ পর্যন্ত রাজ্য থেকে পরবর্তী নির্দেশ আসছে, ততক্ষণ কোর কমিটি জেলা চালাচ্ছে, চালাবে।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ