Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘কনভিকশন রেট’ বাড়াতে হবে অবিলম্বে, বাহিনীকে নির্দেশ দিলেন পুলিস কমিশনার

‘কনভিকশন রেট’ বাড়াতে হবে অবিলম্বে, বাহিনীকে নির্দেশ দিলেন পুলিস কমিশনার
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: কলকাতা পুলিসের ‘কনভিকশন রেট’ এখন মাত্র ১০ শতাংশ। সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এই তথ্য তুলে ধরেন কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা। অবিলম্বে ‘কনভিকশন রেট’ বা মামলায় দোষী সাব্যস্তর হার দ্রুত বাড়াতে হবে বলে বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিস কমিশনার। লালবাজারের এক বিশেষ সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
Advertisement
‘কনভিকশন রেট’ কী? ফি বছর কলকাতায় যত এফআইআর দায়ের হয়, তার মধ্যে যত সংখ্যক মামলায় অভিযুক্তরা দোষী সাব্যস্ত হয়, তার শতাংশের হিসেবকে কনভিকশন রেট বলা হয়। তবে কি তথ্যপ্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে বিচারাধীন বন্দিরা? নাকি আদালতে দীর্ঘসূত্রিতার জেরে অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়ছে কনভিকশন রেটে? কনভিকশন রেটের নিরিখে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে লালবাজারের গোয়েন্দা মহলে।
গোয়েন্দা বিভাগের এক সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতা পুলিসের হোমিসাইড শাখার কনভিকশন রেট এখনও প্রায় ৯৫ শতাংশের উপরে। বৈঠকে সিপি রাজ্য পুলিসের আলিপুরদুয়ার জেলার কনভিকশেন রেট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন বাহিনীর সামনে। সেখানে কলকাতা পুলিসের এমন বেহাল দশা কেন? সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কলকাতা পুলিসের একাংশ বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরেছে। প্রথমত, করোনার সময় জেল থেকে বিচারাধীন বন্দিদের প্যারোলে ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু করোনা মিটলেও তাদের সিংহভাগ আর ফেরেনি। দ্বিতীয়ত, ২০১১ সালে অ্যাডেড এরিয়া কলকাতা পুলিসের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এক ধাক্কায় রাজ্য পুলিসের বকেয়া মামলার চাপ বেড়ে যায়। যার প্রভাব পড়েছে এই পরিসংখ্যানে। তৃতীয়ত, ২০১২ সালের পর ১২ বছর কলকাতা পুলিসে এসআই নিয়োগ বন্ধ ছিল। ফলে ব্যাহত হয়েছে তদন্ত। চতুর্থত, করোনার জেরে দু’বছর বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় শাস্তি হয়নি। উল্টে জামিন পেয়েছে একের পর এক বন্দি। পঞ্চমত, রাজ্যে সাম্প্রতিক অতীতে একাধিক ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যার ফলে নিম্ন আদালতে মামলার পাহাড় জমেছে। সেই মামলার শুনানি শেষ না হওয়ায় উচ্চ আদালত জামিন দিয়ে দিচ্ছে। ষষ্ঠত, ২০২৪ সালে ভাঙড় অধিগ্রহণ করে কলকাতা পুলিস। তার জেরে রাজ্য পুলিসের বকেয়া মামলার চাপ এসে পড়েছে কলকাতা পুলিসের উপর।
এই ইস্যুতে অবসরপ্রাপ্ত এক গোয়েন্দা কর্তা বলেন, ‘কলকাতা পুলিসের স্পেশালজড উইং হল ডিডি বা গোয়েন্দা বিভাগ। থানার অফিসারদের পক্ষে প্রতিদিনের ডিউটির চাপ সামলে অপরাধের কিনারা করা এবং সাজা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই গোয়েন্দা বিভাগ গঠিত হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ২০১৪ সাল থেকে রাতারাতি গোয়েন্দাদের থানায় বদলি করা হয়। আবার জীবনে গোয়েন্দা বিভাগে কখনও কাজ না করা অফিসারদের এই বিভাগে বদলি করা হয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে কনভিকশন রেটে!’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ