Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘দু’ঘণ্টার মধ্যে সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে’, সাইবার প্রতারকদের নয়া ফাঁদে পা দিলেই সর্বনাশ, সতর্ক করছে পুলিস  

‘দু’ঘণ্টার মধ্যে সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে’, সাইবার প্রতারকদের নয়া ফাঁদে পা দিলেই সর্বনাশ, সতর্ক করছে পুলিস
 
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: হঠাৎ বেজে উঠল ফোন। ‘হ্যালো’ বলা মাত্র অপর প্রান্ত থেকে বলা হল, ‘দু’ঘণ্টার মধ্যে আপনার সমস্ত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে!’ কিন্তু, কেন? বলা হল, ‘আপনার ক্রেডিট কার্ডে জালিয়াতির লেনদেন হয়েছে। তাই বন্ধ করা হবে। বিস্তারিত জানতে ৯ প্রেস করুন।’ বিচলিত ও খানিক হতভম্ব আপনি। কী করবেন, ভালো করে বুঝে ওঠার আগেই যদি নম্বরটি ‘প্রেস’ করে দেন, তবে প্রতারকদের ‘মিশন সাকসেসফুল’! এভাবেই প্রতারণার নয়া ফাঁদ পেতেছে সাইবার জালিয়াতরা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা শুনে অনেকেই ঘাবড়ে যাচ্ছেন। ফাঁদে পা দিয়ে যে বা যাঁরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন, তাঁদের ফোন হ্যাক হওয়ার পাশাপাশি ফাঁকা হচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও। এই ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামশ দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রতারকরা কম্পিউটারাইজড কল করছে। প্রথমে ইংরেজিতে বলা হচ্ছে। তারপর হিন্দিতে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের নাম করে ফোন করা হচ্ছে গ্রাহকদের। মাত্র ২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় অনেকেই আচমকা এমন খবরে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। তাঁরা কেউ কেউ ধরেই নিচ্ছেন যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কাস্টমার কেয়ার থেকে ফোন করা হয়েছে। তাই বিস্তারিত জানার জন্য যখনই ৯ ডায়াল করছেন, তৎক্ষণাৎ ফোন হ্যাক হয়ে যাচ্ছে। তারপর আরও কয়েকটি ‘স্টেপ’ বলা হচ্ছে। প্রতারকদের কথা শুনে সেই অনুযায়ী কাজ করলে মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে অ্যাকাউন্ট। সেই সঙ্গে ফোন হ্যাক হয়ে যাওয়ায় সেটির যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতারকদের হাতে চলে যাচ্ছে। ফলে ফোনে থাকা সমস্ত তথ্য, গ্যালারি, ছবি-ভিডিও, ব্যাঙ্ক ডিটেইলস, সোশ্যাল মিডিয়া—সবই চলে যাচ্ছে জালিয়াতদের দখলে। তখন আর্থিক প্রতারণা থেকে শুরু করে ব্ল্যাকমেইল—নানা অপরাধমূলক কাজকর্মের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে প্রতারকরা। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, হ্যাক হয়ে যাওয়া ফোনের কন্ট্যাক্ট লিস্টে থাকা প্রত্যেকের এমন প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। 
সাইবার বিশেষজ্ঞ ও পুলিসের দাবি, এই ধরনের ফোন এলে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া চলবে না। কোনও নম্বর ডায়াল বা প্রেস করা উচিৎ নয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে গিয়ে কথা বলা যেতে পারে। কারণ, সামান্য অসতর্ক হলেই সাইবার প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা ফেলতে হবে। মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে যেতে পারে মাসমাইনের টাকা বা দীর্ঘদিনের সঞ্চয়। আর যদি সতর্কতার অভাবে ফাঁদে পা কেউ দিয়েই ফেলেন, তা বুঝতে পারা মাত্র যোগাযোগ করতে হবে স্থানীয় সাইবার ক্রাইম থানায়। 
সম্পর্কিত সংবাদ