Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বান্ধবী’দের আব্দার মেটাতেই কেপমারি, জেরায় জানাল ধৃত

‘বান্ধবী’দের আব্দার মেটাতেই কেপমারি, জেরায় জানাল ধৃত
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  দুই গার্লফেন্ডকে খুশি করতে গিয়ে হাজতবাস করতে হল এক যুবককে। এক বান্ধবী আবার পানশালার ‘সিঙ্গার’। নিত্যনতুন গিফটের আব্দার লেগে থাকত গার্লফ্রেন্ডদের। উইক এন্ডে ছিল বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার চাপ। যত ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে, ততই বায়নাক্কা বাড়ছিল বান্ধবীদের। ‘সিঙ্গার’ বান্ধবীর গান শুনতে পানশালায় যেতে হতো প্রতিদিনই। কিন্তু খরচ আসবে কোথা থেকে! হাতে কোনও কাজ নেই। তাই শেষ পর্যন্ত তোলাবাজি আর কেপমারিকে বেছে নিয়েছিল দিল্লির বাসিন্দা মহম্মদ সলমান। সেটা করতে গিয়েই পুলিসের জালে ধরা পড়ে গেল অভিযুক্ত। গ্রেপ্তারের আগে সলমান পুলিসকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। এমনকী কর্তব্যরত অফিসারদের মারধর করে এলাকায় লোক জড়ো করে নিজের পক্ষে সকলকে টানার চেষ্টা করেছিল। অবশ্য সে অপরাধী জানার পরই পিঠটান দেন সকলেই। 
Advertisement
কয়েকদিন আগে রাঁচি থেকে বাবুঘাটে আসা দুই যুবকের কাছে সলমান তার ফোন ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে। তাঁরা দিতে রাজি  না হওয়ায় গাড়িতে তুলে বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়ে আড়াই হাজার টাকা জোর করে হাতিয়ে নেয় সে। দুই যুবকের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে লালবাজার ও উত্তর বন্দর থানা। সিসি ক্যামেরা দেখে ছবি বের করা হয় অভিযুক্তের। সোর্স মারফত তদন্তকারী অফিসার জানতে পারেন, অভিযুক্তের যাতায়াত রয়েছে উত্তর কলকাতার নিষিদ্ধ পল্লিতে। সেখানে পৌঁছে অফিসাররা জানতে পারেন, এখানকার এক তরুণীর সঙ্গে অনেকদিন ধরে প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক রয়েছে তার। ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়ার পর দালাল হিসেবে কাজ শুরু করে। এছাড়া  সেখানে আসা বিভিন্ন লোকজনকে ভয় দেখিয়ে টাকা, সোনার গয়না কেড়ে নিত সে। বাবুঘাটে ভিন রাজ্যের বাসে আসা যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে বা কেপমারি করে তোলাবাজি করত সে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন আনন্দপুরেও তার একজন গার্লফ্রেন্ড  তৈরি হয়েছে। 
নিষিদ্ধ পল্লির তরুণীর কাছ থেকে একটি মোবাইল নম্বর পান তদন্তকারীরা। তার কল ডিটেইলস ঘেঁটে দেখা যায় একজনের সঙ্গে তেরো বার কথা বলেছে অভিযুক্ত। পুলিস আরও জানতে পারে, সম্প্রতি সে বাইপাস লাগোয়া একটি পানশালার সিঙ্গারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। দু’জনে একসঙ্গে থাকবে বলে নতুন বাড়ি ভাড়া নিয়েছে ওই এলাকায়। সেখান থেকে অভিযুক্তের আরও একটি নম্বর মেলে। তদন্তকারীরা মোবাইলের সূত্র ধরে জানতে পারেন, বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালের পাশে আছে অভিযুক্ত। সেখানে পৌঁছতেই তদন্তকারীদের নজরে আসে অভিযুক্ত সেখানে খেলা দেখছে। তাকে ধরা মাত্র অফিসারদের চ্যালেঞ্জ করে মারতে শুরু করে বলে অভিযোগ। তার চিৎকারে লোক জড়ো হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বাড়তি ফোর্স নিয়ে এসে অভিযুক্তকে নিয়ে যায় পুলিস। ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, দুই গার্লফ্রেন্ডকে সামলাতে ও তাঁদের আব্দার মেটাতেই কেপমারি ও তোলাবাজির পথ সে বেছে নিয়েছিল।   
সম্পর্কিত সংবাদ