নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সবে রান্না বসিয়েছিলেন বছর সত্তরের শশী সচদেব। আচমকা তিনি শুনতে পান বিকট শব্দ। কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। পরক্ষণেই পাশের ফ্ল্যাট থেকে শুনতে পান চিত্কার— আগুন লেগেছে। কিন্তু এই বয়সে সিঁড়ি দিয়ে নামবেন কীভাবে? উপায় নেই! লিফট যে বন্ধ! শেষমেশ পাঁচতলা থেকে সিঁড়ি বেয়েই নামতে হল তাঁকে। নাতি-নাতনি তখনও স্কুল থেকে ফেরেনি। মিন্টো পার্কের যে আবাসনে আগুন লেগেছে, সেখানেই পাঁচতলায় থাকেন শশীদেবীরা। শুক্রবারের দুপুর হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিটের ফুটপাতে বসেই কাটালেন শশী সচদেবের মতো আরও অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা।
Advertisement
ইতিমধ্যে নাতি-নাতনি স্কুল থেকে চলে এসেছে। ঠাকুমার কোল ছাড়ছে না তারা। শশীদেবী বলছিলেন, ‘তখন তো রান্না করছিলাম। হঠাত্ আওয়াজ শুনলাম। ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে এসে দেখলাম, চারদিকে ধোঁয়া। খুব কষ্ট করে নীচে নেমেছি। এবার বাইরে থেকেই খাবার আনাতে হবে।’ ওই ফুটপাতের একধারে বাঁধা অবস্থায় রয়েছে ‘ব্রিজার’। চিত্কার করে ফুটপাত মাথায় তুলেছে সে। ‘ব্রিজার’ বিদেশি গোত্রের কুকুর। তাকে নিয়েই হুড়মুড় করে নীচে নেমে এসেছেন রেখা। তিনিই ওর দেখাশোনা করেন। পোষ্যকে থামানোর জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছেন তিনি। বাড়ির লোকজন তখন ব্যস্ত বৃদ্ধাকে নিয়ে। এদিকে, ঘটনার ঘনঘটায় রীতিমতো কাঁপছেন ৮৬ বছরের রট্রাউট রায়চৌধুরী। এই জার্মান মহিলা এই চত্বরে প্রায় ৫০ বছর ধরে রয়েছেন। স্বামী মারা গিয়েছিলেন বহু বছর আগে। ওয়াকার ছাড়া হাঁটতে পারেন না। প্রতিবেশীরাই ওই অবস্থায় তাঁকে নীচে নামিয়ে এনেছেন। তিনতলার বাসিন্দা দেবরাজ পুরি বলছিলেন, ‘আমি তো কাজ থেকে ফিরছিলাম। হঠাত্ই দেখি আবাসনের সামনে জটলা। আমাকে ঢুকতে দিচ্ছিল না। তারপর আমার মা আর মিসেস রায়চৌধুরীকে নিয়ে নীচে নামলাম। আমার মায়ের বয়স ৮৩ বছর।’ শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বাসিন্দারা।



