Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

লস্কর কমান্ডার নিকেশে যৌথ বাহিনীর হাতিয়ার ছিল বিস্কুট

লস্কর কমান্ডার নিকেশে যৌথ বাহিনীর হাতিয়ার ছিল বিস্কুট
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
শ্রীনগর: গোপন ডেরায় ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে লস্কর-ই-তোইবার শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার ওসমান। অনেকদিন ধরে তক্কে তক্কে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের হিটলিস্টে নাম রয়েছে এই পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীর। শনিবার ভোরে তাকে খতম করতে শুরু হল অপারেশন। সব ঠিকঠাক থাকলেও বাহিনীর চিন্তার কারণ পথকুকুর। সেগুলি ডেকে উঠলেই জেতা ম্যাচও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাই তাদের বশে আনতে বিস্কুটকেই হাতিয়ার করেছিল বাহিনী।  
Advertisement
গোয়েন্দা সূত্রে খবর মেলে, শ্রীনগরের খান্যর এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে ওসমান। তৎক্ষণাৎ এলার্ট করা হয়  সিআরপিএফ ও পুলিসের যৌথবাহিনীকে। সামান্যতম ভুলচুকও চলবে না। কারণ, অপারেশনের খবর ঘুণাক্ষরে জানাজানি হলে চোখের নিমেষে গা ঢাকা দেবে এই কুখ্যাত জঙ্গি। অতি সন্তর্পণে শুরু হল অপারেশন। গোটা এলাকা ঘিরে রেখে ক্রমেই টার্গেটের কাছে এগতে শুরু করলেন জাওয়ানরা। এধরনের অপারেশনের ক্ষেত্রে পথ-কুকুর নিয়ে খুব সাবধান থাকতে হয়। কারণ, এলাকায় অপরিচিত লোক দেখলেই তারস্বরে চিৎকার জুড়ে দেয় তারা। তা থেকেই সতর্ক হয়ে যায় জঙ্গিরা। খান্যরের মধ্যে ঘন জঙ্গলে ঘেরা এলাকায় যা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাহিনীর কাছে। এই সমস্যা মেটাতে তাদের হাতিয়ার ছিল বিস্কুট। তল্লাশির সময় সেই বিস্কুট ছড়িয়েই সারমেয়দের বশ করার কৌশল নিয়েছিল বাহিনী। তা কাজেও এসেছে। পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবার শীর্ষ স্থানীয় কমান্ডারকে নিকেশ করতে সক্ষম হয়েছে সিআরপিএফ ও পুলিস।  গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ২০০০ সালের দিকে ভারতে এসে জঙ্গি কার্যকলাপ শুরু করে ওসমান। একাধিক হামলায় তার নামও জড়িয়েছিল। তারপর দীর্ঘসময় পাকিস্তানে গিয়ে গা ঢাকা দেয়। ফের ২০১৬-১৭ সালে ফিরে আসে। গতবছর ইনসপেক্টর মনসুর ওয়ানি খুনেও নাম জড়িয়েছিল এই লস্কর কমান্ডারের। জনবহুল এলাকায় তার লুকিয়ে থাকার খবর পেয়েই কাজে নেমে পড়ে বাহিনী। ৯ ঘণ্টা ধরে পরিকল্পনার পর শুরু হয় অপারেশন। পারিপার্শ্বিক ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে ওসমানকে নিকেশ করতে ভোরের প্রার্থনার আগেই (ফজর) সংশ্লিষ্ট এলাকার ৩০টি বাড়ি ঘিরে ফেলেন পুলিস ও জওয়ানরা। চিন্তা ছিল পথ কুকুরদের নিয়ে। বিস্কুট দিয়ে সেই সমস্যাও মিটিয়ে ফেলে বাহিনীর সদস্যরা। কোণঠাসা হতেই একে ৪৭, পিস্তল ও গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালাতে শুরু করে ওসমান। পাল্টা জবাব দেয় বাহিনীও। দু’পক্ষের গুলির লড়াইয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। লস্কর কমান্ডারকে নিকেশ করতে সক্ষম হন জওয়ানরা। তবে চার নিরাপত্তা কর্মীও জখম হন। 
সম্পর্কিত সংবাদ