Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উত্তর শহরতলিতে বেনজির এলপিজি সংকট

যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে বিশ্বের বহু জায়গায়। মারাত্মক প্রভাব এসে পড়েছে এই দেশেও। সমস্যা বাড়ছে রাজ্যের উত্তর শহরতলিতেও। সেখানে দেখা দিয়েছে এলপিজি গ্যাসের বেনজির সংকট।

উত্তর শহরতলিতে বেনজির এলপিজি সংকট
  • ১০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে বিশ্বের বহু জায়গায়। মারাত্মক প্রভাব এসে পড়েছে এই দেশেও। সমস্যা বাড়ছে রাজ্যের উত্তর শহরতলিতেও। সেখানে দেখা দিয়েছে এলপিজি গ্যাসের বেনজির সংকট। হাজার হাজার অটো ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে এলপিজি ফিলিং স্টেশনে। দাঁড়িয়ে থাকাই সার। কারণ বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে এলপিজি নেই। কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়তি দাম দিয়ে এবং বেআইনি পথে ‘কাটা গ্যাস’ কিনতে চাইছেন বহু চালক। কিন্তু তাও অমিল। ফলে শহরতলিজুড়ে অটো রুটগুলি পড়েছে মুশকিলে। অস্বাভাবিক হারে কমে গিয়েছে গাড়ির সংখ্যা। বিপাকে নিত্যযাত্রীরা। কলকাতার কাশীপুর থেকে শহরতলির বারাকপুর, টিটাগড়, মধ্যমগ্রাম, সর্বত্র একই চিত্র। আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অটোর সংখ্যা আরও কমবে।

Advertisement

উত্তর শহরতলির প্রতিটি পুর এলাকায় কম করে সাত থেকে আটটি অটো রুট রয়েছে। হাজার হাজার অটো যাতায়াত করে সে সব রুটে। সিংহভাগ অটো চলে এলপিজি দিয়ে। ডানলপ, বেলঘরিয়া, সাজিরহাটিতে এলপিজি গ্যাসের ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এইসব স্টেশনের পাশাপাশি প্রতিটি পুর এলাকায় ‘কাটা গ্যাস’য়ের বেআইনি দোকান ছিল। সেখানে রান্নার গ্যাস কেজি দরে বিক্রি হত। সেই গ্যাসের ভরসায় চলছিল বহু অটো।  কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বেআইনি কাটা গ্যাসও মিলছে না। আর বৈধ ফিলিং স্টেশনগুলিতে সংকট এলপিজি’র।
বেলঘরিয়া সিএসটিসি বাস ডিপো লাগোয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস মিলছে। ফলে সোমবার সেখানে দীর্ঘ লাইন। স্টেশনের দু’দিকজুড়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ অটোর লাইন পড়েছে। সে লাইন একদিকে বিটি রোড ধরে বরানগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত লম্বা। বেলঘরিয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সঞ্জয় দাস বলেন, ‘আগে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার লিটার এলপিজি বিক্রি হত। এখন দিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। এখন প্রতিদিন ১০ হাজার লিটার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’ নাটাগড়ের বাসিন্দা অটো চালক সজল সরকার দুপুর ১২টা নাগাদ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বিকেল চারটের সময়ও গ্যাস ভরতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আগে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে কাটা গ্যাস পাওয়া যেত। ১২০ টাকাতেও এখন মিলছে না। আশপাশে কোথাও এলপিজি নেই। তাই বাধ্য হয়ে বেলঘরিয়ায় এসেছি। ১৪-১৫ কেজি গ্যাস ভরব। হয়ত দু’দিন চলবে। তারপর কি হবে জানি না।’ ডানলপ-বারাকপুর রুটের অটো চালক বিশ্বজিৎ সাউ। তিনি বলেন, ‘ভোর পাঁচটা থেকে টিটাগড়ে কাটা গ্যাসের দোকানে লাইন দিয়েছিলাম। সকাল সাড়ে ১০টায় জানানো হয় গ্যাস শেষ। আর কাউকে গ্যাস দেবে না। ফোনে জানতে পেরে বেলঘরিয়াতে সকাল ১১টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বিকেল চারটেতেও গ্যাস ভরতে পারিনি।’ মধ্যমগ্রাম থেকে অটো নিয়ে আসা অনুপ দে বলেন, ‘সাজিরহাটিতে ইন্ডিয়ান অয়েলের পাম্পে গ্যাস ভরতাম। কিন্তু শনিবার থেকে সেখানে গ্যাস নেই। তাই বাধ্য হয়ে এখানে এসেছি। চারঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাসের অভাবে রাতারাতি প্রতিটি অটো স্ট্যান্ডে গাড়ি কমে গিয়েছে।’ সকালে পানিহাটি থেকে অটোয় ডানলপ আসা সঞ্জীব দত্ত বলেন, ‘অন্যান্য দিন রাস্তায় এলেই অটো পেয়ে যেতাম। এদিন প্রায় ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে তবে পেলাম।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ