নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়েকদিন আগে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়িয়েছিল উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি নিম্নচাপ। সেটি এখন রাজস্থান সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছে পাকিস্তানে। নিম্নচাপটি এগনোর পথে উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানে প্রচুর বৃষ্টি দিয়েছে। কোনও কোনও জায়গায় বন্যাও হয়েছে। গভীর নিম্নচাপটি কিছুটা শক্তি হারিয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হলেও এর প্রভাবে পাকিস্তানের কিছু এলাকায় এবার বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হবে। আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিকে, আগামী বৃহস্পতিবার নাগাদ উত্তর বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়ে দক্ষিণবঙ্গের উপর আসবে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়ে দিয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে। আপাতত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার কিছু স্থানে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সেখানে ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে হিমালয় লাগোয়া অংশে, বেশি বৃষ্টি হবে। দক্ষিণবঙ্গে হাল্কা থেকে মাঝারি মাত্রায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে।
এবার বর্ষাকালে জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের একটা বড় অংশে বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে বঙ্গোপসাগরে গড়ে ১০-১২টি নিম্নচাপ হয়ে থাকে। এবার বর্ষায় মাসখানেকের মধ্যে ছ’টি নিম্নচাপ হয়েছে। আরও একটি আসতে চলেছে। এবার বর্ষা মরশুমে দেশে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টি যে বেশি হবে তার পূর্বাভাস আবহাওয়া দপ্তর আগেই দিয়েছিল। অধিক সংখ্যায় নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে বর্ষাকালে বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়। এবার সেটাই হচ্ছে। এবার মৌসুমি বায়ুসহ বায়ুপ্রবাহের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি নিম্নচাপ সৃষ্টির অনুকূল। বেশি বৃষ্টির সহায়ক কয়েকটি বিষয় এবার আবহাওয়া মণ্ডলে সক্রিয় আছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপগুলি পাকিস্তান পর্যন্ত যাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়। কয়েকবছর আগে পাকিস্তানে বন্যা হয়েছিল এই কারণে। কিছুটা নিচু দিয়ে গেলে নিম্নচাপগুলি গুজরাতের দিকে যায়। নিম্নচাপ এগনোর পথে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর থেকে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করে এর শক্তি বৃদ্ধি করে। সাম্প্রতিক নিম্নচাপটি উত্তরপ্রদেশের উপর শক্তি বৃদ্ধি করে এই কারণে ফের গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। পশ্চিম রাজস্থান হয়ে পাকিস্তানের দিকে যাওয়ার সময় শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে এবার নিম্নচাপটি কিছুটা শক্তি হারাতে শুরু করেছে।