নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রথযাত্রা হয়ে গিয়েছে কিন্তু হুগলির কুমোরটুলিগুলিতে দুর্গাপুজোর আমেজ এখনও ঠিকমতো আসেনি। উলটে মুখভার কুমোরটুলিগুলির। বায়না সেভাবে আসেনি। যদিও বা কিছুটা এসেছে সেখানেও ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ দাম কম মিলছে । মৃৎশিল্পীদের বক্তব্য, মূর্তি তৈরির মাটি থেকে ঠাকুরের সাজ, রং বা কারিগর ও জোগানদারদের মজুরির খরচ বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। এই অবস্থায় পুজোর বাজার সেভাবে চাঙ্গা না হওয়ায় মুখ ভার সবারই। ব্যান্ডেল থেকে জেলা সদর লাগোয়া কানাগড়, চন্দননগরের কুমোরপাড়ায় কার্যত কর্মব্যবস্ততার লেশ নেই। অনেকের বক্তব্য, এবার পুজোয় রাজ্য সরকারের অনুদান আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই বাজেট কমাতে মরিয়া বহু পুজো কমিটি। অনেকে পুজো করবে কি না তা নিয়েও দ্বিধায় রয়েছে। সবমিলিয়ে কুমোরপাড়াজুড়ে সংকটের আশঙ্কাজনক ছবি।
সাধারণত আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পুজোর বরাত আসা প্রায় শেষ হয়ে যায়। সিংহভাগ বরাত এই সময়ের মধ্যেই চলে আসে। রথযাত্রা থেকে হইহই রব শুরু হয়ে যায় হুগলির কুমোরটুলিগুলিতে। এবার ব্যতিক্রমী চিত্র। ব্যান্ডেলের প্রতিমা শিল্পী গোপাল পাল বলেন, ‘কিসের হইচই। এবার তো বরাতই তেমন আসেনি। যে কয়েকটি এসেছে সেগুলিরও বাজেট কম। গতবার যে উদ্যোক্তারা ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মূর্তি কিনেছেন তাঁরাই এবার ৫০ হাজারের মূর্তি গড়তে বলছেন।’ অন্যদিকে পুজো উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, ‘এবার সরকারি অনুদান নেই। তাই বাজেট কম।’ গোপাল পাল জানান, গত বছর ৪০টি মাঝারি ও ৮টি বিগ বাজেটের প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। এবার সবমিলিয়ে ১৫ টি বরাত মিলেছে। কানাগড়ের খ্যাতনামা কুমোরটুলির অবস্থাও তথৈবচ। শ্যামল পালের কারখানায় গতবছর ৭৫টি প্রতিমা হয়েছিল। এবার এখনও পর্যন্ত ৫০টির বরাত এসেছে। পুজো উদ্যোক্তাদের সিংহভাগ জানিয়েছেন, ৫০ থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে মূর্তি গড়ে দিতে হবে। গতবার এই ধরনের প্রতিমাই প্রায় দ্বিগুণ দরে বিকিয়েছে। শ্যামলবাবু বলেন, ‘মূর্তি আয়তনে কমিয়ে দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। একদিকে উদ্যোক্তাদের বাজেট কমেছে। অন্যদিকে প্রতিমা তৈরির মাটি থেকে সাজ, রং সবের দাম বেড়েছে।’
হুগলি-চুঁচুড়া কেন্দ্রীয় দুর্গাপুজো কমিটির সঙ্গে বহুবছর ধরে জড়িয়ে অমিত রায়। প্রবীণ অমিতবাবু চুঁচুড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘সরকারি অনুদানের টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু তাতে পুজোর অর্থনীতি চাঙ্গা হত। প্রতিমাশিল্পী থেকে ঢাকি সবার হাতে দু’টো বাড়তি টাকা আসত। টাকার জোগান কম পড়লে তার প্রভাব অনেক জায়গাতেই পড়বে।’ বিজেপির জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে বলেন, ‘সরকারি অনুদান ছাড়াই বাঙালি তাঁর প্রাণের পুজোকে বিপুল আনন্দে উদযাপন করেছে। এবারও পুজো সবার ঘরেই আনন্দ বয়ে আনবে।’
সরকারি অনুদানের পক্ষে-বিপক্ষে মত থাকবেই। তবে আপাতত হুগলির কুমোরপাড়া প্রায় নিঝুম। গতবার আগস্টের শুরুর পর্ব থেকে এবারের দৃশ্য ভিন্ন। সেটা নিয়ে নানা মহলে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। নিজস্ব চিত্র