জোগান কমলেও ভাল দাম মেলায় স্বস্তিতে পদ্ম চাষিরা
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: মণ্ডপসজ্জায় আধুনিকতা ও প্রতিমায় থিমের চমক লাগলেও অষ্টমীর সন্ধিপুজোয় পদ্মফুলের কোনো বিকল্প নেই। ১০৮টি পদ্ম ছাড়া মায়ের আরাধনা কার্যত অসম্পূর্ণ। একসময় গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে, পুকুর-দিঘিতে পদ্ম ফুটতে দেখা যেত। কিন্তু নগরায়নের জেরে সেসব এখন অতীত। ফলে উৎসবের মরশুমে এমনিতেই পদ্মের জোগানে টান পড়ে। আর এবার পুজোর আগে অতিবৃষ্টির জেরে ফলন কম হওয়ায় বাজারে আক্ষরিক অর্থেই মহার্ঘ্য হয়ে উঠেছে মায়ের পুজোয় অপরিহার্য পদ্ম। তবে জোগান কম হলেও বাজারে চড়া দাম পেয়ে মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে জেলার ফুলচাষিদের।

Advertisement

বীরভূমের আহমদপুর ও লাভপুর সংলগ্ন এলাকার বিস্তীর্ণ জলাশয়ে ব্যাপকভাবে পদ্মের চাষ হয়। এবার দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে ফলন মার খেয়েছে। পুজোর বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উলটে জোগান কম থাকায় ভাল দাম পাচ্ছেন চাষিরা। গত বছর যে পদ্ম আড়াই থেকে তিন টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার চাষিরা খেত থেকেই সেই ফুলের দাম পাচ্ছেন ৫-৬ টাকা। পাইকারি মহাজনদের হাত ঘুরে খুচরো বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৯-১০ টাকায়। শহরে গিয়ে সেই পদ্মের দাম অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে। অষ্টমীর আগে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
আহমদপুরের প্রত্যন্ত গ্রামগুলি থেকে ভিনরাজ্যে পদ্ম পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক আগে থেকেই। এখনও চলছে। ফুল যাতে টাটকা থাকে, তার জন্য থার্মোকলের বাক্সে পদ্ম পাতা ও বরফের আস্তরণ দিয়ে প্যাকিংয়ের কাজ চলছে। লাভপুরের ফুলচাষি তথা ব্যবসায়ী দীপঙ্কর হালদার বলেন, এখানকার পদ্ম রাজ্যের শিলিগুড়ি, মালদহ বা নদীয়া তো বটেই, পাড়ি দেয় দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, মুম্বইয়ের মতো বড় শহরে। দুর্গাপুজো ছাড়াও কালীপুজো বা লক্ষ্মীপুজোতেও মেট্রো শহরগুলিতে এই ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকে। এলাকার ফুল ব্যবসায়ী গৌতম মণ্ডল বলেন, ফলন কম হলেও এবার চাষিরা ভাল দাম পেয়ে খুশি। রাজ্যের সব জায়গার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও প্যাকিং করে ফুল পাঠানোর কাজ চলছে।
তবে, চড়া দামে সাময়িক হাসি ফুটলেও, চাষিদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার আক্ষেপ একেবারেই মুছে যায়নি। নিজস্ব পরিকাঠামোর অভাব আজও তাঁদের কাছে বড় বাধা। পদ্মচাষি প্রশান্ত মণ্ডল কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, ফলন কম হলেও দাম ভালো পাচ্ছি। কিন্তু আমাদের নির্দিষ্ট কোনো বাজার নেই। 
রাস্তাঘাটে বসেই ব্যবসা করতে হয়। সরকার যদি আমাদের কথা ভেবে আহমদপুরে স্থায়ী মার্কেটের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমাদের মতো হাজার হাজার মানুষের রুজি রোজগারের খুব সুবিধা হয়। উৎসবের আবহে ভালো লাভের মুখ দেখলেও স্থায়ী বাজার নিয়ে প্রসাশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন জেলার পদ্মচাষিরা।