


রান্না সংক্রান্ত কথা আর রেসিপি নিয়ে চলছে হারানো রান্নার গল্প। এই বিভাগে একটি পদ বিষয়ে গল্প শোনান রন্ধনবিশেষজ্ঞ ও গবেষক শুভজিৎ ভট্টাচার্য, সঙ্গে থাকে সেই রান্নাটির রেসিপি। আজকের পর্বে নারকেল দুধে মাছ।
আজ এমন এক রান্নার গল্প বলব আপনাদের, যা বনেদি বাড়িতে জনপ্রিয় ছিল। চন্দ্রকোনার জরা গ্রামের রাজ পরিবারের রেসিপি এটি। ১৭৪৮ সালে এই রাজ পরিবার প্রতিষ্ঠা হয়। এই পরিবারের অন্যতম রাজা রাজীব লোচন রায় ছিলেন রাজা রামমোহন রায়ের বিশেষ বন্ধু। তিনি রাজা উপাধি পেয়েছিলেন বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজের কাছ থেকে। এরপর এই পরিবারের সমৃদ্ধি বাড়তে থাকে। এই বাড়ির বিশেষ উল্লেখ রয়েছে সিনেমা পাড়াতেও। মহানায়ক উত্তমকুমার ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ছবির শ্যুটিং করেছিলেন এই বাড়িতে। এই বাড়ির দুর্গাপুজো বহু পুরনো। খুব জাঁকজমক হয় এখানকার পুজোয়। রুপোর পালকি চড়ে কলাবউ স্নান করাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে ঠাকুরদালানে মূর্তি গড়া থেকেই শুরু হয় উৎসবের পরিবেশ। রান্নার নিয়ম ও জমকও নেহাত কম নয়। মায়ের ভোগের সবটাই জড়িয়ে নিরামিষ, তাও পুজোর মধ্যে একটু আমিষের ছোঁয়াও থাকে বৈকি। তারই একটি পদ নারকেল দুধে মাছ। খুব অল্প উপকরণ দিয়ে, কম সময়ে এই রান্নাটি করা যায়। কীভাবে করবেন?
উপকরণ: রুই মাছ ৪ টুকরো, নুন হলুদ পরিমাণ মতো, রসুন বাটা ১ চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১টি, নারকেলের দুধ ১/২ কাপ, গোলমরিচ গুঁড়ো ১ চামচ, কাঁচা লঙ্কা কুচি স্বাদ অনুযায়ী, ভিনিগার সামান্য, ঘি প্রয়োজন অনুযায়ী, সর্ষের তেল ১/২ কাপ।
প্রণালী: রান্নাটির জন্য কড়াই আঁচে বসান। তাতে তেল গরম করে নিন। নুন ও হলুদ মাখানো মাছ তেলে ভেজে নিন। এরপর মাছ তুলে নিয়ে তেলের সঙ্গে ঘি মিশিয়ে নিন। তারপর তাতে পেঁয়াজ ভেজে নিন। ভাজা পেঁয়াজের সঙ্গে মেশান রসুন বাটা। তারপর তা ভালো করে কষিয়ে নিন। এরপর তাতে লঙ্কা, নুন, গোলমরিচ গুঁড়ো আর নারকেলের দুধ মিশিয়ে দিন। ঢিমে আঁচে ঝোলটা রান্না হতে দিন। বেশ ফুটে উঠলে ভিনিগার দিয়ে মিশিয়ে নিন। তারপর দিয়ে দিন ভেজে রাখা মাছ। একবার উল্টে মাছ ঝোলে মিশতে দিন। ঝোল ঘন হয়ে গা মাখা হলে অল্প ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। ভাত বা পোলাও সহ পরিবেশন করুন এই রান্নাটি।