রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতবর্ষে এই প্রথম রাজভবন তথা লোকভবনের প্রত্যেক গেটের নামকরণ করা হচ্ছে। কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের নামে একটি গেটের নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও তালিকায় আছেন সমাজ সংস্কারক, মনীষী, স্বাধীনতা সংগ্রামী।
২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী ‘রাজভবন’-এর নাম বদলে হয় ‘লোকভবন’। দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গই প্রথম, যেখানে রাজভবন থেকে লোকভবন নামকরণ করা হয়। সেই সময় রাজ্যপাল ছিলেন সি ভি আনন্দ বোস। সাধারণ মানুষের সহজেই প্রবেশাধিকার এবং রাজভবনের সঙ্গে আম জনতার সুসম্পর্ক গড়ে তুলতেই ‘লোকভবন’ নামকরণ বলে জানানো হয়েছিল। রাজ্যের বর্তমান রাজ্যপাল আর এন রবি। তাঁর সময়কালে অন্যতম একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হল গেটগুলির নামকরণ। মঙ্গলবার লোকভবন চত্বরে গিয়ে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন গেটে ফলক বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিপরীতে রাজভবনের যে গেট, তার নাম হয়েছে ‘ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় দ্বার’। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়। তাঁকে ‘পশ্চিমবঙ্গের রূপকার’ বলা হয়। সেই সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য সর্বজনবিদিত। এই নামকরণের মাধ্যমে লোকভবন তাঁকে শ্রদ্ধা জানাল।
শিয়ালদহগামী রাস্তার দিকে লোকভবনের গেটের নামকরণ করা হয়েছে ‘সিধো কানহো দ্বার’। তার আগে রয়েছে ‘রাজা রামমোহন রায় দ্বার’। এজি বেঙ্গলের অফিসের বিপরীতে লোকভবনের যে গেট রয়েছে, তার নামকরণ করা হয়েছে শদিহ ক্ষুদিরাম বসুর নামে। তবে লোকভবনের মূল গেট এবং আকাশবাণী ভবনের বিপরীতে যে গেট রয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে নামকরণের কোনো ফলক বসেনি। মনে করা হচ্ছে, পরবর্তী পর্যায়ে সেটি বসানো হবে। তবে আম জনতা বিভিন্ন কাজে যে গেট দিয়ে প্রবেশ করে, লোকভবনের সেই মূল গেটের নামকরণ কার নামে হয়, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।
কলকাতার রাজভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৭৯৯ সালে। কাজ সম্পন্ন হয় ১৮০৩ সালে। ব্রিটিশ আমলে এটি গভর্নমেন্ট হাউস বা লাটভবন নামে পরিচিত ছিল। ভাইসরয়ের বাসভবন ছিল এটি। স্বাধীনতার পর রাজ্যপালের বাসভবন হিসাবে নাম হয় রাজভবন। ২৭ একরের বেশি জায়গাজুড়ে রয়েছে রাজভবন। মোট ছ’টি ফটক রয়েছে। এবার প্রত্যেকটি গেটকে আলাদা আলাদা নামে চিনবে মানুষ।