সংবাদদাতা, বোলপুর: রাজ্যে পালাবদলের পর কয়েকমাসের মধ্যেই নতুন শাসকদলের নেতা-কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। কোথাও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা চাওয়া, আবার কোথাও প্রোমোটার বা বালিঘাটের সঙ্গে যুক্তদের থেকে অর্থ দাবি, এমনকী আবাস যোজনা সহ সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সমস্ত ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ সামনে আসেনি। কারণ অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না।
তবে বোলপুর, লাভপুর, নানুর সহ একাধিক এলাকায় এমন অভিযোগ নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়েছে। বোলপুর-শান্তিনিকেতনের হোটেল, লজ, হোম স্টে বা নতুন বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রেও টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে বিজেপির অনেক নেতা এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। এবার নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। সেইসঙ্গে বুধবার দলের জেলা কার্যালয়ে তিনি বলেন, তোলাবাজির শিকার হলে কেউ যদি সরাসরি বলতে না পারেন, তাহলে লিখিতভাবে, প্রয়োজনে সম্পূর্ণ গোপনে প্রমাণ সহ অভিযোগ জানান। আমরা সেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি প্রশাসনকেও জানিয়ে রেখেছি।
শ্যামাপদবাবুর দাবি, ব্যক্তিগত রাগ, ক্ষোভ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আশঙ্কা থাকে। তাই অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নয়, আগে তা যাচাই করা হবে। অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। তৃণমূলের অনেকে নব্য বিজেপি সেজেও এসব করতে পারে।
জেলা বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্য নেতৃত্বও ইতিমধ্যে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটরাজের বিরুদ্ধে একাধিকবার সতর্ক করেছে। যে ‘তোলাবাজিমুক্ত’ রাজ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, সেই তোলাবাজির অভিযোগ যদি নতুন সরকারের আমলেও উঠতে শুরু করে-তবে পরিবর্তন নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠবেই। তাই শ্যামাপদবাবু স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, বিজেপির নাম করে ইউনিয়নবাজি, সিন্ডিকেট বা তোলাবাজি চলবে না। অভিযোগ পেলেই তদন্ত হবে। প্রমাণ মিললে দলীয় স্তরেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।