


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: পাইলস সার্জারির পরেও মিলছে না প্রয়োজনীয় বাড়তি ছুটি। এর ফলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নগ্ন হয়ে শল্য চিকিৎসার প্রমাণ দেখাতে বাধ্য হলেন এক লোকো পাইলট। নর্দার্ন রেলের লখনউ ডিভিশনে এমন ঘটনায় রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কতটা অমানবিক হলে রেল কর্তৃপক্ষ তার একজন কর্মচারীর সঙ্গে এহেন ব্যবহার করতে পারে? স্বাভাবিকভাবেই গোটা ঘটনায় ব্যাকফুটে রেলমন্ত্রক।
সরকারি সূত্রে খবর, এই বিতর্কের অভিঘাত এতটাই তীব্র যে, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব স্বয়ং উল্লিখিত ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়। এই ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নর্দার্ন রেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যাঁর সামনে লোকো পাইলটকে নগ্ন হয়ে অপারেশনের প্রমাণ দাখিল করতে হয়েছে, সেই আধিকারিককে ইতিমধ্যেই কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। সেই তদন্ত শেষ হলেই রেলের ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে উদ্ভূত বিতর্ক সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে রেল কর্তৃপক্ষ। তাতেও অবশ্য রাশ টানা যায়নি। গোটা ঘটনায় বিতর্কের রেশ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এব্যাপারে সরব হয়েছে ট্রেন চালকদের সর্বভারতীয় সংগঠনও। তাদের অভিযোগ, কতটা চাপের মুখে লোকো পাইলটদের কাজ করতে হয়, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। অথচ এসংক্রান্ত বিষয়ে বারবার রেলমন্ত্রীকে অবহিত করেও কোনো সুরাহা হয়নি। এবার রেলমন্ত্রী নিজেই সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখুন। এবিষয়ে রেলমন্ত্রীকে চিঠিও পাঠাচ্ছে লোকো পাইলটদের সংগঠন। সামগ্রিক বিষয়কে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে রেল বিশেষজ্ঞ মহল।
ঠিক কী ঘটেছে? নর্দার্ন রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি লখনউয়ে অর্শ রোগের নিরাময়ে শল্য চিকিৎসা করিয়েছিলেন লোকো পাইলট রাজেশ মিনা। সেইমতো ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনের ছুটি নেওয়া ছিল তাঁর। কিন্তু দেখা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই লোকো পাইলটের ক্ষত সম্পূর্ণ নিরাময় হয়নি। আরও বিশ্রামের প্রয়োজন। সেইমতো রাজেশ মিনার চিকিৎসক তাঁকে আরও কয়েকদিন বাড়তি ছুটির জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেন। এমনকি এব্যাপারে প্রয়োজনীয় শংসাপত্রও দেন।
যাবতীয় নথিপত্র নিয়েই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেন ওই লোকো পাইলট। অভিযোগ, তাঁর ইমিডিয়েট সিনিয়র ক্রু কন্ট্রোলার এব্যাপারে রাজেশ মিনাকে চিফ ক্রু কন্ট্রোলার (সিসিসি) রতন কুমারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তাঁকে সমস্ত নথিপত্র দেখালেও তিনি রাজেশ মিনার ছুটি বাড়িয়ে দিতে অস্বীকার করেন। বরং সত্যিই তাঁর এমন কোনো শল্য চিকিৎসা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকেন বলে অভিযোগ। একপ্রকার বাধ্য হয়েই একঘর লোকের সামনে নগ্ন হন রাজেশ মিনা। সিনিয়র অফিসারকে বলেন, আপনি নিজেই চেক করে দেখে নিন, আমি মিথ্যা কথা বলছি কি না। কয়েকজন এই ঘটনার ভিডিও করেন এবং রেল কর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করেন। এর পরেই বিতর্ক চরমে ওঠে। অমানবিকতার জন্য কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় রতন কুমারকে।