


সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনে সোনাঝুরি জঙ্গলে খোয়াইয়ের হাট নিয়ে ইতিমধ্যেই জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা, জঙ্গল সংরক্ষণ এবং হাটের বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার সোনাঝুরি হাট চত্বরে একটি বাংলা ধারাবাহিকের শুটিং ঘিরে ফের নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। গাড়ি, জোরালো আলো, শব্দযন্ত্র এবং নানা বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে শুটিং হওয়ায় পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। বনদপ্তরের শুটিংয়ে অনুমতি দেওয়া নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, এদিন সোনাঝুরির মূল হাট এলাকায় একটি বাংলা টেলিভিশন ধারাবাহিকের শুটিং করা হয়। শুটিংয়ের সুবিধার জন্য জঙ্গলের ভিতরে বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে প্রবেশ করে ইউনিটের সদস্যরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় গাড়ি, তীব্র আলো, মাইক্রোফোন ও শব্দযন্ত্র ব্যবহারের ফলে জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠা সোনাঝুরি এলাকায় এভাবে শুটিং চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু মানুষ।
উল্লেখ্য, সোনাঝুরির হাট ও খোয়াই এলাকায় পরিবেশ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ তুলে আগেই জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। হাটের বৈধতা, জঙ্গল এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যকলাপ ও পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই মামলার শুনানি এখনও বিচারাধীন বলেই জানা গিয়েছে।
এদিন শুটিং ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, যেখানে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জঙ্গলে গাড়ি প্রবেশ, উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো বা নির্বিচারে ভিডিওগ্রাফির বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক বোর্ড লাগানো রয়েছে, সেখানে কীভাবে এত বড় আকারে শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হল। স্থানীয় বাসিন্দা কালো সরেন ও দেবু সরেন বলেন, বন ও পরিবেশ রক্ষার নিয়ম সাধারণ মানুষের জন্য একরকম আর শুটিং ইউনিটের জন্য অন্যরকম হতে পারে না।
পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত অভিযোগ করে বলেন, সোনাঝুরির মতো সংবেদনশীল এলাকায় এই ধরনের কর্মকাণ্ড জঙ্গল ও জীববৈচিত্র্যের পক্ষে ক্ষতিকর। বন রক্ষার পরিবর্তে প্রশাসনের একাংশ উল্টে বাণিজ্যিক কাজে তা ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে শুটিং কর্তৃপক্ষ। শুটিংয়ের দায়িত্বে থাকা কার্তিক শেঠ দাবি করেন, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি নিয়েই শুটিং করা হয়েছে। কোথাও পরিবেশের ক্ষতি করা হয়নি। বোলপুর রেঞ্জের বন আধিকারিক জ্যোতিষ বর্মন জানান, শুটিংয়ের জন্য বনদপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।