


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বর্ষা এলেই ফি বছর বুক কাঁপে ফরাক্কার নিশিন্দ্রাবাসীর। ঝাড়খণ্ডের পাহাড় থেকে নেমে আসা জলের স্রোত ভাসায় নিশিন্দ্রা এলাকা। ভেঙে পড়ে রাস্তার একাংশ, বাড়ি, ঘর। আর এই নিশিন্দ্রা কাটান-এর জেরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। দশকের পর দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসীর কপালে স্থায়ী সেতু জোটেনি। ভোটের মুখে সেই পুরানো ক্ষোভই এখন নতুন করে দানা বাঁধছে ফরাক্কায়। বাসিন্দাদের সাফ কথা, আশ্বাস অনেক হয়েছে, এবার সেতু না হলে ভোট নিয়েও ভাবতে হবে। ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, নিশিন্দ্রায় সেতু নির্মাণের চেষ্টা চলছে। একাধিকবার ফরাক্কা এনটিপিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। সেখানে খুব শীঘ্রই সেতু নির্মিত হবে।
ভৌগোলিক কারণেই ঝাড়খণ্ডের পাহাড়ের বৃষ্টির জল এই এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফি বছর বর্ষায় জলের প্রবল চাপে নিশিন্দ্রা কাটান সংলগ্ন রাস্তাটি কার্যত খালের চেহারা নেয়। যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় কয়েক হাজার মানুষের। ব্লক সদর বা হাসপাতালে যাওয়ার জন্য তখন কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে যাওয়াই একমাত্র ভরসা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর ভাঙন মেরামতির নামে সরকারি অর্থের নয়ছয় হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটে না প্রশাসন। ভোটের মরশুম এলেই নিশিন্দ্রার এই ভাঙন এলাকা রাজনৈতিক নেতাদের তীর্থস্থান হয়ে ওঠে। বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু ভোট মিটলেই সবই ফাঁকা বলে দাবি সাধারণ মানুষের। এদিকে রাস্তা কেটে যাওয়ায় চাষের ফসল বাজারে নিয়ে যেতে কালঘাম ছোটে চাষিদের। প্রাণ হাতে নিয়ে জলমগ্ন রাস্তা পারাপার করতে হয় পড়ুয়া ও রোগীদের। গত বর্ষার মরশুমে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল। স্থানীয় লোকজন পরে তাঁকে উদ্ধার করেন।
সামনেই বিধানসভা ভোট। ইতিমধ্যেই দেওয়াল লিখন ও প্রচার শুরু হয়েছে। তবে এবার নিশিন্দ্রার মানুষ আর কেবল কথায় ভুলতে নারাজ। গ্রামের মোড়ে মোড়ে চায়ের আড্ডায় এখন একটাই আলোচনা, সেতু না হলে নেতা-মন্ত্রীদের এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। এমনকী, এলাকার একাংশ ভোট বয়কটেরও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা নিয়ামত আলি বলেন, প্রতি বছরই এই সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিবারই শুনি এবার সেতু হবে। নেতারা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজ কিছুই হয়নি।
এদিকে, প্রশাসন সূত্রে খবর সেতুর পরিকল্পনা ডিপিআর স্তরে রয়েছে। কিন্তু এই একই রেকর্ড শুনতে শুনতে কান পচে গিয়েছে এলাকাবাসীর। তাঁদের দাবি, কাজ শুরু হোক আগে, তারপর কথা হবে ভোট নিয়ে।