সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: বোধনের আগেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া শিলিগুড়ি মহকুমা ফাঁসিদেওয়া থানা বন্দরগছে দুর্গা প্রতিমা দেখতে ভিড় জমছে। তবে বন্দরগছের দেবনাথ বাড়িতে দুর্গাপুজো হয় না। কিন্তু বাড়ির ১১ বছরের স্কুলপড়ুয়া মৃণাল দেবনাথ নিজে হাতে ছোট্ট দুর্গা প্রতিমা প্রতিবছর গড়ে তোলে। ৯ বছর বয়সে প্রায় এক ফুট উচ্চতার দুর্গা প্রতিমা গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল মৃণাল।
এবারও প্রতিমা গড়ছে ফাঁসিদেওয়া হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মৃণাল। কাজ প্রায় শেষ। তার এই প্রতিমা দেখতেই গ্রামের মানুষ ভিড় করছে তাদের বাড়িতে। অথচ মৃণালের বাড়ি বা বংশের কেউ মৃৎশিল্পী নন। ছোটবেলা থেকে মাটি নিয়ে খেলতে খেলতে পুতুল বানিয়ে প্রতিমা বানানোর নেশায় জড়িয়ে পড়ে মৃণাল। সে বলে, ছোটবেলায় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে বড় বড় প্রতিমা দেখে আমারও ইচ্ছে হতো, এরকম প্রতিমা তৈরি করব। বাড়িতে সেই প্রতিমা দিয়ে দুর্গাপুজো করব। প্রতিমা গড়ার সাধ পূরণ হলেও, বাড়িতে পুজো করার স্বাদ এখনও পূরণ হয়নি। আর্থিক সংকটের কারণে মৃণালদের বাড়িতে দুর্গাপুজো করা সম্ভব নয়।
তাহলে প্রতিমা বানালে কীভাবে তার পুজো হবে। দু’বছর আগে এনিয়ে চিন্তার শেষ ছিল না এই শিশুশিল্পীর। গ্রামের পুজো কমিটি মৃণালের স্বপ্ন পূরণের জন্য এগিয়ে আসে। গত দু’বছর ধরে ফাঁসিদেওয়া হাইস্কুলে মাঠে সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি তার তৈরি ছোট্ট প্রতিমারও পুজো করছে মণ্ডপে। এবছরও তার প্রতিমা সেখানেই পূজিত হবে।
মৃণাল বলে, আমার বাবা সামান্য খেতমজুর। সংসার সামলে বাড়িতে দুর্গাপুজো করার মতো সামর্থ্য বাবার নেই। প্রতিমা তৈরি করতেও অনেক খরচ। অনেক কষ্টে বাড়ির সকলের সাহায্যে আমি সেই প্রতিমা তৈরি করছি।
মাত্র ৯ বছর বয়সে দুর্গা প্রতিমা গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল মৃণাল। প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাড়ির সকলে ভেবেছিল, মৃণালের এই প্রতিভার স্ফুরণের জন্য অনেকে সাহায্য করবেন। তবে সেভাবে কেউ এগিয়ে আসেননি। মৃণালের ইচ্ছে, বড় হয়ে বড় বড় প্রতিমা ও স্ট্যাচু তৈরি করবে। নিজস্ব চিত্র।