নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ভারতীয় রেল মানচিত্রে বীরভূমের জেলা সদর সিউড়ি খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। জেলার রামপুরহাট ও বোলপুর বাদে অন্যান্য এলাকাও খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। যার জন্য রামপুহাট ও শান্তিনিকেতনের গণ্ডি ছাড়িয়ে পর্যটকরা জেলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে পা বাড়াতে সাহস পান না। ফলে সামগ্রিক ভাবে জেলায় পর্যটন শিল্প এখনও সেভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। এখনও জেলার একাধিক পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক স্থান আড়ালেই থেকে গিয়েছে। জেলার বণিক মহলের গলায় তাই আক্ষেপের সুর। তাদের দাবি, জেলার সদর শহরের সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রেল যোগাযোগ সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। তাতে পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যও চাঙ্গা হবে। বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, বিষয়টি একাধিকবার পার্লামেন্টে তুলেছি। একাধিক প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সিউড়ির সঙ্গে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের রেল যোগাযোগ অত্যন্ত দুর্বল। রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলির সঙ্গেও সিউড়ির রেল যোগাযোগ ভালো নয়। সিউড়ি হয়ে চলাচল করলেও দূরপাল্লার বহু ট্রেনের স্টপ নেই। এমনকী বহু ট্রেন এই সদর শহরকে স্পর্শ করে না। সিউড়ির স্টেশনে হাতে গোনা কয়েকটি ট্রেনের স্টপ রয়েছে। সেই গুটিকয়েক ট্রেনের দৌলতেই কলকাতা কিংবা শিলিগুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা হয়। কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় প্রতিদিনই ট্রেন চলাচল করলেও ট্রেনের সংখ্যা ও সময় কোনওটাই পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে সিউড়ি থেকে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর শিলিগুড়ি যেতে ভরসা চারটি মাত্র ট্রেন। সেগুলিও আবার সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিনে চলাচল করে। স্বাভাবিকভাবেই যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সড়কপথই মূল ভরসা। দেশের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গেও সিউড়ির রেল যোগাযোগ উন্নত নয়। এছাড়াও জেলার সদর শহর সিউড়ির সঙ্গে বোলপুররের সরাসরি রেল যোগাযোগ নেই বললেই চলে। সেইসঙ্গে জেলার আভ্যন্তরীণ রেল যোগাযোগও খুব একটা উন্নত নয়। ফলে জেলার পর্যটন শিল্প এখনও সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে জেলার সদর শহরের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ করে তোলার দাবি উঠতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে সিউড়ি মার্চেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব একটা উন্নত নয়। যার জন্য অনেকটাই সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা প্রয়োজন। জেলার পর্যটন শিল্প উন্নত হলে আর্থিক অবস্থাও অনেকটা চাঙ্গা হবে।