নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: গ্রীষ্মের শুরুতেই দেউচা পাচামির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পানীয় জলের সমস্যা মিটতে চলেছে। জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় এবার পরিস্রুত পানীয় জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে। সেক্ষেত্রে পাইপলাইন বসানো থেকে শুরু করে সাবমার্সিবল বসানোর তোড়জোড় চলছে। প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, এপ্রিল মাসের শুরুতেই বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে প্রায় ৭০ লাখ টাকা খরচে ১৫টি নতুন সাবমার্সিবল বসানো হচ্ছে। এতে দেউচা পাচামির মথুরাপাহাড়ি, সাগরবাঁদি, চাঁদা, গাবারবাথান সহ একাধিক এলাকার মানুষ জলকষ্ট থেকে মুক্তি পাবেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের তরফে পাম্প অপারেটরেরা সাবমার্সিবল পরিচালনার কাজ করবেন। পরবর্তীতে স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের হাতে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, জেলাজুড়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পানীয় জল সমস্যা সমাধানের কাজ চলছে। সেই কাজের অঙ্গ হিসেবেই দেউচা পাচামিতেও বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। সাব মার্সিবলের মাধ্যমে সেই জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে।
জল সঙ্কট মেটাতে ২০০৫ সালে হাটগাছা জল সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল। ২ লাখ লিটার জল ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাঙ্কের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জল পাইপলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হতো। তবে, জলের চাহিদা ক্রমশ বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসন ঘাটতি মেটানোর কাজে মন দেয়। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই প্রকল্পকে আরও বৃহৎ আকার দেওয়ার কাজ শুরু হয়। মোট ছ’টি মৌজার প্রায় ১৫টি পাড়ায় বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাবমার্সিবল বসানোর কাজ শুরু হয়। সেইসঙ্গে নতুন করে পাইপলাইন বসানোর কাজও চলতে থাকে। সামগ্রিক কাজ প্রায় শেষের পথে।
হাটগাছা জল সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে এতদিন কমবেশি সাতটি পাড়া উপকৃত হতো। যদিও জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছতো না। এতদিন পাড়ার স্ট্যান্ড পোস্ট থেকেই জল সংগ্রহ করতে হতো। তবে এবার জল জীবন মিশন প্রকল্পের হাত ধরে বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছনোর কাজ প্রায় শেষের পথে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে প্রকল্প চালুর সময় বিস্তীর্ণ এলাকায় পাইপলাইন বসানো হয়েছিল। বলাবাহুল্য একাধিক পাড়ায় প্রায় ৬০ শতাংশ পাইপলাইনের কাজ আগেই হয়েছিল। সেসব পাড়ায় নতুন করে ৪০ শতাংশ কাজ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব পাড়ায় পাইপলাইনের সংযোগ ছিল না, সেখানে নতুন করে সংযোগ করা হচ্ছে। ফাইল চিত্র