Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লক্ষ্য নজরদারি, এবার ব্যাঙ্কের অস্থায়ী কর্মীদের তথ্য থাকবে পুলিসের কাছেও

লক্ষ্য নজরদারি, এবার ব্যাঙ্কের অস্থায়ী কর্মীদের তথ্য থাকবে পুলিসের কাছেও
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বজবজ: ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কে যাঁরা অস্থায়ী কর্মী কাজ করেন, তাঁদের ঠিকুজি-কোষ্ঠী নিজেদের হেফাজতে রাখতে চাইছেন পুলিসের কর্তারা। একারণে পুলিস জেলার পক্ষ থেকে সমস্ত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মহেশতলা থানা তার এলাকার ১৮টি ব্যাঙ্কের শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। বজবজ, পুজালি, কালীতলা আশুতি, ফলতা সহ সবক’টি থানা এ বিষয়ে তৎপরতা শুরু করেছে। 
Advertisement
প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগে মহেশতলার বাটা মোড়ে এসবিআইয়ের শাখায় নকল চাবি দিয়ে ভল্ট ও আলমারি খুলে ৭৫ লক্ষ টাকা চুরি করে দুষ্কৃতীরা। পাশাপাশি লোপাট হয় কয়েক লক্ষ টাকার বন্ধকী সোনা। এই চুরির ঘটনার নেপথ্যে ছিল ওই ব্যাঙ্কের এক অস্থায়ী কর্মী আরিফ। আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে তাকে নিয়োগ হয়েছিল। আরিফ ওই ব্যাঙ্ক কর্তাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠে ভল্ট ও আলমারির নকল চাবি তৈরি করেছিল। গোটা পরিকল্পনা সাজিয়েছিল এক বছর আগে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন থেকে সব ব্যাঙ্কে অস্থায়ী কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য প্রতিটি থানাকে দিতে হবে। জেলা পুলিসের সুপার রাহুল গোস্বামী প্রতিটি থানাকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বলেছেন। কারণ, এবার এই ধরনের ঘটনা পুলিসকে চাপে ফেলে দিয়েছিল। চুরির পর অভিযুক্ত সমস্ত প্রমাণ লোপাট করে দিয়েছিল। নকল চাবি তৈরি করে গোটা অপারেশন হয়েছে। কোথাও কিছু ভাঙা হয়নি। কখনও কোনও ব্যাঙ্কে এভাবে চুরি হয়নি আগে। পুলিস কর্তারা চাইছেন, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আগাম ব্যবস্থা নিতে। তাই অস্থায়ী কর্মীদের উপর নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিস। এমনকী, ব্যাঙ্কের ভিতর তাঁদের গতিবিধিও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই কর্মীদের ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিশেষ করে ক্যাশ ও ভল্ট সংক্রান্ত কোনও কাজে ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মহেশতলা থানার আইসি তাপস সিনহা বলেন, এ নিয়ে ব্যাঙ্কের সবক’টি শাখার সঙ্গে বৈঠক করা হবে। সেখানে পুলিস তাদের ‘লক্ষ্মণরেখা’র কথা বলবে।
সম্পর্কিত সংবাদ