নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শ্রীরামপুর শহর ও ব্লকে ভাবপ্রবণ থিমের আধিক্য। কিন্তু দৌড়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই বাস্তবের থিমও। নানা স্থাপত্য, কোথাও বিদেশি শহরকে আশ্রয় করে বাস্তবোচিত থিমের বাহার নজর কাড়বে। আর আছে লাইভ থিম। বাস্তবকে বাস্তবিক আদলেই তুলে ধরার প্রয়াস। সেই চেষ্টাতেই সাবেক ডেনিস কলোনিতে কোথাও নেমে আসছে আস্ত দুবাই শহর, তো কোথাও গড়ে উঠছে সোনাঝুরি হাট। থিমেই চমক, তারপরও জুড়ে যাচ্ছে ‘গুচ্ছথিম’-এর চমক।
শ্রীরামপুর শহর লাগোয়া সাতঘড়া নতুন দল এবার গুচ্ছথিম নিয়ে শারদীয়ার মণ্ডপসজ্জায় নেমেছে। আস্ত দুবাই শহরকে তুলে আনা হচ্ছে পুজোর মাঠে। দুবাইয়ের একাধিক স্থাপত্যকে পৃথক পৃথকভাবে থিম হিসেবে তুলে ধরে বিগত বছরগুলিতে কলকাতা থেকে শহরতলির বেশ কিছু পুজো সাড়া ফেলেছিল। কিন্তু সাতঘড়ার মণ্ডপ বুর্জ খলিফা থেকে শুরু করে দুবাইয়ের কৃষ্ণমন্দির, দুবাইয়ের বিখ্যাত কৃত্রিম ঝর্না, হোটেল, এমনকী ভাসমান ক্রুজ পর্যন্ত তুলে ধরছে এবারের পুজোয়। একটি ছোট পুকুরের ধারে একাধিক স্থাপত্য নিয়ে গড়ে উঠছে এই দুবাই। সেখানকার একাধিক স্থাপত্যের ঝলক আনতে তার আকার আয়তন খুব একটা ছোট করা হচ্ছে না। বুর্জ খলিফার উচ্চতা ১২০ ফুট। কৃষ্ণমন্দিরের উচ্চতা হবে প্রায় ৫০ ফুট। সেই মন্দিরেই দেবী দশভুজা বিরাজ করবেন। আধুনিক ধাঁচের দর্শনীয় প্রতিমা তৈরি করছেন উদ্যোক্তারা। থাকবে রাজরাজেশ্বরী সাজ। মুশকিল হচ্ছে এতকিছুর পরেও থামতে নারাজ নতুন দলের ২৭তম বর্ষের আয়োজকরা। দিনকয়েক আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, আলো ও শব্দের খেলা থিমের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। তার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। পুজো উদ্যোক্তারা একটি মরুভূমির আদল আনার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তবে তা এখনও নিশ্চিত হয়। যদিও আলোকসজ্জায় থাকবে চমক। কার্যত রাতে দুবাইয়ের আদল আনতে বিশেষ আলোকসজ্জার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুজোর উদ্যোক্তা তরুণ দাস বলেন, বাঙালির মহাপার্বণ দুর্গাপুজো। তাই দুবাইয়ের একটি স্থাপত্য নয়, আস্ত দুবাইকেই আমরা পুজোমণ্ডপে তুলে আনছি।
পুরুষপ্রধান ক্লাবগুলির সঙ্গে টক্কর দিতে মহিলা পরিচালিত একতা মহিলা শক্তি ক্লাবের সদস্যরা আস্ত সোনাঝুরি হাটকে এবার পুজোমণ্ডপ করে ফেলেছেন। শ্রীরামপুরের মদনমোহন মন্দির সংলগ্ন এলাকায় শুধু হাটই বসবে না, হবে বিক্রিবাটাও। দর্শনার্থীরা কিনতে পারবেন সোনাঝুরির নানা সামগ্রী। সঙ্গে থাকবে ধামসা-মাদলের নৃত্য। মাটির ঘর থেকে চাতাল, খড়ের কাঠামো, খানিকটা অরণ্যের মতো পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। সেখানেই সাবেকি ধাঁচের দেবী প্রতিমা মৃণ্ময়ী হয়ে অবস্থান করবেন। পুজোর উদ্যোক্তা সোমা মুখোপাধ্যায় বলেন, চার বছর পর আমরা থিম পুজো করছি। তাই লাইভ থিম করা হচ্ছে।
চওড়া পিচ রাস্তা হারিয়ে যাচ্ছে বাহারি মণ্ডপসজ্জার মেকওভারে। স্রোতহীন পুকুরের পাড় হয়ে উঠছে দুবাই, সোনঝুরির জঙ্গল। ২০২৫ সালের শারদীয়া পর্বে কার্যত চমকের বিস্তীর্ণ চাঁদোয়ায় ঢাকা পড়ছে ঐতিহ্যের শ্রীরামপুর।