নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শনিবার কালীপুজোর আগের দিন বিপুল পরিমাণ ভেজাল মদ উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল ছড়ায় হীরাপুর থানার নরসিংবাঁধ এলাকায়। আবগারি দপ্তরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকানেই ভেজাল বিদেশি মদ ও বিয়ারের বোতল উদ্ধার হয়েছে। আবগারি দপ্তরের আকষ্মিক এই অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে পাঁচজন। নিজের বিধানসভা এলাকায় এই অভিযান গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন খোদ রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোলের মহিশিলায় কালীপুজোর উদ্বোধনের ফাঁকে এই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, শুনেছি বিপুল পরিমাণে অবৈধ মদ উদ্ধার হয়েছে। প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় মদ বিক্রির, জুয়ার আসর বসছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আমাদের এই সরকার তা মেনে নেবে না। প্রতি ক্ষেত্রেই কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। কালীপুজোর আগের রাতে খোদ রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর জুয়া নিয়ে এই স্বীকারোক্তি শোরগোল ফেলেছে রাজনৈতিক মহলে। দীর্ঘদিন ধরেই হীরাপুর থানা নরসিংবাঁধ এলাকায় আবগারি দপ্তরের একটি বৈধ বিদেশি মদের দোকান চালু রয়েছে। এই দোকান নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। ভোর ছ’টা থেকে রাত বারোটা-একটা পর্যন্ত নিয়ম ভেঙে মদ বিক্রি হয় বলে অভিযোগ। স্কুলের সামনে এই অরাজকতায় সাধারণ মানুষ সরব হলেও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। শনিবার ভোরে আচমকাই আবগারি দপ্তরের বিশাল টিম ওই এলাকায় হানা দেয়। পাঁচটি গাড়ি নিয়ে তাঁরা এলেও গাড়ি দূরে রেখে কুড়ি-পঁচিশ জন মিলে পায়ে হেঁটে মদের দোকান ঘিরে ফেলে। এরপরেই শুরু হয় ম্যারাথন জেরা। পেটি পেটি মদের বোতল আবগারি দপ্তরের গাড়িতে করে বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যাওয়া হয়। এলাকায় হুলস্থুল পড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ অফিসাররা তদন্ত করার পর মদের কারবারের সঙ্গে যুক্ত পাঁচ জনকে আটক করে আসানসোলে আবগারি দপ্তরের অফিসে নিয়ে যায়।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাঁরা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভেজাল মেশানো মদ বোতলে সিল করে বিক্রি হচ্ছিল। বিপুল পরিমাণ রাজস্বর ক্ষতি হচ্ছে সরকারের। পাশাপাশি ক্রেতারা ভেজাল মদ খেয়ে বিপাকে পড়ার সম্ভাবনাও প্রবল। জানা গিয়েছে ১৪৭ লিটার বিয়ার এবং ১২৯ লিটার ফরেন লিকার বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৪ লাখ টাকা। আবগারি দপ্তরের থেকে মামলা রুজু করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন আসানসোল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জেলে হেপাজতের নির্দেশ দেন।
স্কুলের সামনে মদের দোকানের এই অভিযানে স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবি ছিল এই দোকানের জেরে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মদের দোকানে লাইসেন্স বাতিল করা হবে কি না তা দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। আপাতত দোকানটি বন্ধ করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই জুয়া খেলা বন্ধ করা নিয়ে তৎপর অগ্নিমিত্রা পাল। বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে নিজে অভিযানে নেমেছিলেন। বারবার পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কোনোভাবেই অবৈধ মদ ও জুয়ার আসর যাতে না বসে। তারপরেও যে সেই কাজ চলছে তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন মন্ত্রী।
কংগ্রেস নেতা দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল আমলে হওয়া সব অবৈধ কারবারই বিজেপির আমলে চলছে বরং তা আরো বড়ো মাত্রায় হচ্ছে। মদ, জুয়া নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী। তিনি বলেন, কলকাতার গঙ্গা তীরবর্তী এলাকা যেভাবে সাজানো হবে আসানসোলেও দামোদর নদীর তীরবর্তী এলাকা সেভাবেই সাজানো হবে। কলকাতার পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, নদী তীরবর্তী এলাকা ধরে কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবার এমনকী, সুন্দরবন পর্যন্ত ফোর লেনের রাস্তা করা যায় কি না তা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে। আমরা রেলের সংস্থা রাইটসের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা বলেছি। এছাড়া নদী তীরবর্তী এলাকা ধরে মেট্রো চালানোর ভাবনাও রয়েছে। •



