দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়ায় এক ভারী অদ্ভুত নদীর সন্ধান মেলে। নদীটি বিভিন্ন সময় নানা রং ধারণ করে। কখনও লাল, কখনও হলুদ, কখনও বা গৈরিক। এমন নানা রঙের জন্য নদীর নাম লিকুইড রেইনবো বা রিভার অব ফাইভ কালারস। অবাক লাগছে কী? ভাবছ এমনও কি সম্ভব? নদীর জল তারও নাকি রং বদল হয়। তাহলে বলি এই রং বদল যখন তখন ঘটে না। দিনের কিছু সময় ধরে বা কয়েকটি বিশেষ মরশুমে এই রং বদল হয়। আরও বিস্ময় জন্মাল বুঝি তোমাদের মনে? তাহলে একটু খুলেই বলি নদীর এই রং বদলের গপ্প।
আঞ্চলিক ভাষায় নদীর নাম কানো ক্রিস্টেল। কলোম্বিয়ার সেরানিয়া ডি লা ম্যাকারেনা জাতীয় উদ্যানের মাঝে এই নদীর অবস্থান। জাতীয় উদ্যানে নানা গাছের সমাহার। সেইসব গাছের আবার মরশুম অনুযায়ী পাতায় নানা রং ধরে। লাল, হলুদ, গেরুয়া, বেগুনি— রং যেন অফুরন্ত। আর সেইসব রঙের সঙ্গে সূর্যের আলো নানা সময়ে মিলেমিশে যেন রঙের ছটা তৈরি করে। রংবাহারী প্রকৃতি নদীর জলে লেগে তৈরি করে রঙের নানা রকম। আসলে কিন্তু এই নদীর জল স্বচ্ছ। তাই সেই জলে যখন গাছের পাতার ছায়া পড়ে, আর তার সঙ্গে মেশে সূর্যের আলো তখনই নানা রঙে রঙিন হয়ে ওঠে নদীর জল। নদীর জলের এই যে রং বদল এর পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ নাকি একটা জলজ গুল্ম। নাম তার ম্যাকারেনিয়া ক্লেভিগেরা। গুল্মটি সময় সময় রং বদলায়। গ্রীষ্মকালে তার রং হয় কালচে লাল, ইংরেজিতে যাকে বলে মেরুন। সেই রঙের সঙ্গে যখন সূর্যের আলো মেশে তখন তাতে একটা উজ্জ্বল কমলা রং ধরে। আর সেই রং নদীর জল চুঁইয়ে উপর দিকে ওঠে তখনই নদীর জলে নানা রঙের ছটা ফুটে ওঠে। সে এক অসাধারণ দৃশ্যই বটে।
তবে রঙের আশি শতাংশ যদি ম্যাকারেনিয়া ক্লেভিগেরা গুল্ম থেকে আসে তাহলে বাকি কুড়ি শতাংশ অন্যান্য গাছের পাতা, চারা গাছ ও শ্যাওলা থেকে আসে। সেই কারণেই এই ক্রমাগত বিভিন্ন রং বদল দেখা যায় নদীর জলে। এক এক সময়, পড়ন্ত বিকেলের গোধূলি আলোয় এক দুধে আলতা রং লাগে নদীর জলে সে এক অসামান্য দৃশ্যই বটে। এই অঞ্চলে বেড়াতে যাওয়ার আদর্শ সময় জুলাই থেকে নভেম্বর। তখনই রঙের বাহার সবচেয়ে বেশি মাত্রায় ধরা পড়ে পর্যটকের চোখে। এখানে যাওয়ার জন্য মধ্য কলম্বিয়া থেকে প্লেন ধরতে হয়। জাতীয় উদ্যানে পৌঁছে সবচেয়ে ভালো সফরের জন্য গাইড নেওয়া ভালো। তিনিই অভিজ্ঞ চোখে নদীর জলের রং বদল পরতে পরতে দেখিয়ে দিতে পারবেন।